ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

পাবনা মাদরাসার শিক্ষককে ঘিরে বিরোধের জের: মানববন্ধনে পিস্তল বের করে গুলি, পেটে গুলিবিদ্ধ ১

পাবনা প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

পাবনা মাদরাসার শিক্ষককে ঘিরে বিরোধের জের: মানববন্ধনে পিস্তল বের করে গুলি, পেটে গুলিবিদ্ধ ১

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শিবপুরে একটি মাদরাসার দুই শিক্ষককে ঘিরে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইকরাম মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লা আটঘরিয়া উপজেলার কদিম বাগদিপাড়া গ্রামের জবির মোল্লার ছেলে। আর গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠা টিপু বিশ্বাস (৪২) একই উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসি গ্রামের আহেদ বিশ্বাসের ছেলে।

শিক্ষকদের নিয়ে অভিযোগ, এরপর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু ও প্রভাষক আফরোজা খাতুনকে ঘিরে সম্প্রতি অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হলে তাদের অপসারণের দাবিতে গত ৩ আগস্ট মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করে স্থানীয় একটি পক্ষ।

তবে ওই অভিযোগকে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র দাবি করে এর প্রতিবাদে রোববার পাল্টা মানববন্ধনের আয়োজন করে অপর একটি পক্ষ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ান।

ব্যানার কেড়ে নেওয়ার পর গুলির অভিযোগ

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে ব্যানার কেড়ে নেন এবং মানববন্ধনে বাধা দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে টিপু বিশ্বাস কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। এরপর তাকে বাধা দেওয়ার সময় ইকরাম মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিটি তার পেটে লাগে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরে গুলিবর্ষণকারী ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা

গুলির ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে আটঘরিয়া ও আতাইকুলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু ও প্রভাষক আফরোজা খাতুনের পক্ষের লোকজন ও স্বজনরা মাদরাসার সামনে মানববন্ধন করেন। এতে হোসেন আলী, বকুল হোসেন, আব্দুস সামাদ ও মজনু প্রামাণিকসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। বক্তারা দাবি করেন, মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি একটি পক্ষ দুই শিক্ষককে নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা শিক্ষকদ্বয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানান।

একই সঙ্গে মানববন্ধনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

অভিযোগ অস্বীকার শিক্ষকের

অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলাম না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা: পুলিশ

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, গুলিবর্ষণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

তিনি বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

এদিকে, গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তের পরই শিক্ষকদ্বয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা, গুলিবর্ষণের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!