ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন: সিরাজগঞ্জের খাদ্য কর্মকর্তা, স্ত্রী ও বাবার ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা:

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন: সিরাজগঞ্জের খাদ্য কর্মকর্তা, স্ত্রী ও বাবার ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুই মামলায় সিরাজগঞ্জের এক খাদ্য কর্মকর্তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাঁকে মোট ১ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বাবা ও স্ত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পাবনার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সালাহউদ্দিন খাঁ এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম (৪৩), তাঁর বাবা মো. সহিদুল ইসলাম প্রামানিক এবং স্ত্রী মোছা. ডলি বেগম। রায়ের সময় সকল আসামিই পলাতক ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিশেষ মামলা ৭/২৩-এর রায়ে মনিরুল ইসলামকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তাঁর বাবা সহিদুল ইসলাম প্রামানিককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিশেষ মামলা ১৩/২৩-এর রায়ে মনিরুল ইসলামকে আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তাঁর স্ত্রী ডলি বেগমকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মনিরুল ইসলাম সর্বমোট ৪্য৭ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ টাকার সম্পদের তথ্য দেন। তবে অনুসন্ধান শেষে দুদক তাঁর নামে ভবন নির্মাণ ব্যয়সহ ৮২ লাখ ৩১ হাজার ৮৫০ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পায়। অর্থাৎ, তিনি ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা বিবরণী প্রদান করেন।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপ-পরিচালক ও মামলার বাদী মো. শহীদুল আলম সরকার জানান, তদন্তে মনিরুল ইসলামের ব্যাংক হিসাবে ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা এবং ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়, যা তিনি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু এই জমাকৃত টাকার বৈধ কোনো উৎস তিনি প্রদর্শন করতে পারেননি।

তদন্ত শেষে দুদক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে, যার ভিত্তিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

banner
Link copied!