নাটোর শহরের মল্লিকহাটী এলাকায় নিজ বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে ফজের আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ইয়াছিনের বাবা। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে ফজের আলী নিজ বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। এ সময় তিনি একাই ট্যাংকের ভেতরের ময়লা পরিষ্কারের চেষ্টা করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনি সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যান।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে তারা চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সম্মিলিতভাবে ফজের আলীকে সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে পড়ে গিয়ে তিনি শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ চিকিৎসা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে পড়ে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই শহিদের পরিবারের ওপর আরেক শোক
নিহত ফজের আলীর ছেলে ইয়াছিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শহিদ হন। ছেলেকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের উপার্জনক্ষম অভিভাবক ফজের আলীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, ফজের আলীর মৃত্যুতে মল্লিকহাটী এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছেলে ইয়াছিনকে হারানোর পর পরিবারের জন্য ফজের আলীর এই মৃত্যু আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।
স্বজন ও স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সেপটিক ট্যাংকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাস জমে থাকতে পারে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছাড়া কোনো ব্যক্তি ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করলে শ্বাসরোধ বা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে প্রশিক্ষিত কর্মী ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
নাটোরের মল্লিকহাটী এলাকায় ফজের আলীর মৃত্যুর ঘটনাটি আবারও সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

