নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়গ্রাম বাজারে অভিযান চালিয়ে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৬১ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অবৈধভাবে সার মজুত ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে চার ব্যবসায়ীকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই ব্যবসায়ীকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আন্জুমের নেতৃত্বে বড়গ্রাম বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়।
চার ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান
অভিযান চলাকালে বড়গ্রাম বাজারের চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ব্যবসায়ী সোহেলের দোকান থেকে ৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্য ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের দোকান থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়। একই অপরাধে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া আবুল হাসেমের দোকান থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়। তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে সবচেয়ে বেশি সার জব্দ করা হয় ব্যবসায়ী মোবারকের দোকান থেকে। তার দোকান থেকে ১৪৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৬১ বস্তা সার জব্দ করা হয় এবং তাদের মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

যে আইনে ব্যবস্থা
প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে সার মজুত এবং উচ্চ মূল্যে বিক্রির অভিযোগে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ধারা ১২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কৃষি মৌসুমে সার নিয়ে যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় এবং কৃষকরা নির্ধারিত বা ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সার কিনতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাজারে নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধ মজুত ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চান স্থানীয়রা
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। পরে চাহিদার সুযোগ নিয়ে বেশি দামে সার বিক্রির প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা।
তাদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; অভিযানের পাশাপাশি বাজারগুলোতে নিয়মিত তদারকি, সার বিক্রির হিসাব সংরক্ষণ এবং অনুমোদিত মূল্যে সার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, বড়গ্রাম বাজারের মতো সিংড়া উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের বাজারগুলোতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এতে অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রবণতা কমার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বার্তা
বড়গ্রাম বাজারে একসঙ্গে ২৬১ বস্তা সার জব্দ, অর্থদণ্ড এবং দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় সার নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে।
কৃষি মৌসুমে সার সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ মজুতদারদের মধ্যে আইন অমান্যের প্রবণতা কমবে এবং কৃষকরাও প্রয়োজনীয় সার সহজে সংগ্রহ করতে পারবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

