জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে দুস্থ ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে চলাচলে অক্ষম এক অসহায় ব্যক্তির হাতে একটি হুইল চেয়ার তুলে দেওয়া হয়।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাঁচবিবি উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল তুলে দেন জয়পুরহাট জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক যাদব সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান।
শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল
উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে অসচ্ছল ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেলগুলো বিতরণ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেসব শিক্ষার্থী দূরত্ব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যায় পড়ে, তাদের জন্য এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল তুলে দিয়ে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক যাদব সরকার তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
বাইসাইকেল পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমবে। পাশাপাশি দূরের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকার সুযোগও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অসহায় ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার
শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণের পাশাপাশি একজন অসহায় ও পঙ্গু ব্যক্তিকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করা হয়।
জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক যাদব সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান উপস্থিত থেকে ওই ব্যক্তির হাতে হুইল চেয়ারটি তুলে দেন।
চলাচলে অক্ষম একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় হুইল চেয়ারটি সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পড়াশোনার খোঁজ নিলেন ইউএনও
বাইসাইকেল বিতরণের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন।
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করার পাশাপাশি ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেন। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে তাদের অনুপ্রাণিত করেন তিনি।
শিক্ষায় সহায়তায় স্থানীয় উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টরা জানান, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল বিতরণের ফলে তাদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী দূরবর্তী এলাকা থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে, তাদের জন্য এ ধরনের সহায়তা শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, অসহায় ও চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার দেওয়ার মাধ্যমে তার দৈনন্দিন চলাফেরায় কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য ফিরবে।
উপজেলা পরিষদের এমন উদ্যোগ একদিকে যেমন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা করবে, অন্যদিকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সামাজিক দায়িত্ব পালনেরও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের জীবনযাত্রাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

