ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

menu

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা নিরসনে করণীয় নিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, পরিবহন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

বৈঠকে যারা রয়েছেন

বৈঠকে অংশ নিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর গুরুত্ব

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন চলাচল, যাত্রী ওঠানামায় অনিয়ম, অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, সড়কে বিশৃঙ্খলভাবে যানবাহন থামানো এবং নির্ধারিত নিয়ম না মানার কারণে নগরবাসীকে নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট, গণপরিবহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।

বৈঠকে এসব সমস্যা কীভাবে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা

রাজধানীর সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাস, মিনিবাস, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এর সঙ্গে পথচারী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

ফলে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হিসেবে রয়েছে।

যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের নিয়ম মেনে চলা, যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা—এসব বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন

ঢাকার যানজট শুধু পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে নগর পরিকল্পনা, সড়ক অবকাঠামো, গণপরিবহনের রুট ব্যবস্থাপনা, পার্কিং, ফুটপাত দখল, রাস্তার ওপর অবৈধভাবে যানবাহন থামানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন বিষয় জড়িত।

তাই বৈঠকে শুধু বাস পরিচালনা নয়, সামগ্রিক নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশেষ করে পরিবহন খাতের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

রাজধানীর গণপরিবহনে যাত্রীদের অন্যতম অভিযোগ হলো অনিয়মিত সার্ভিস, অতিরিক্ত ভাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে যাত্রী ওঠানামা এবং যানবাহনের চালকদের অসচেতনতা।

এ কারণে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক গণপরিবহন নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে হলে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী, ট্রাফিক পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডিটিসিএ ও ডিএমপির ভূমিকা

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সরাসরি কাজ করে।

একই বৈঠকে পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ও মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

রাজধানীর গণপরিবহন নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এ বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়—সেদিকে নজর রয়েছে নগরবাসীর।

বৈঠকে আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা জানানো হতে পারে।

রাজধানীর কয়েক কোটি মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকাংশেই গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। তাই নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শুধু যানজট ও যাত্রীভোগান্তিই কমবে না, বরং রাজধানীর সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নগরজীবনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!