ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসকে ঘিরে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, সম্পদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসকে ঘিরে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, সম্পদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দরপত্রে কারসাজি, কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ উঠে এলেও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একই বিভাগে দায়িত্ব পালনের সুযোগে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। ফলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক

অভিযোগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০২২–২৩ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অকেজো জেনারেটর মেরামত, নিরাপত্তা বাতি, পাম্প মোটর, বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারসহ মোট ২২টি কাজের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

হাসপাতালের একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, তালিকাভুক্ত ২২টি কাজের মধ্যে ২১টির বাস্তব অস্তিত্ব মাঠপর্যায়ে পাওয়া যায়নি। অথচ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন,

“সরেজমিন পরিদর্শনে আমরা ২১টি কাজ না হওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। লিখিতভাবে বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।”

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিক হয়েছেন পবিত্র কুমার দাস।

এর মধ্যে মালিবাগের একটি আবাসিক প্রকল্পে তার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার একটি এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের তথ্যও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

তবে এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

অর্থ পাচারের অভিযোগ

প্রতিবেদনগুলোতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতের একটি শহরে আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

দরপত্র ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

ঠিকাদারদের একটি অংশের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কমিশন ছাড়া কোনো ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হতো না।

এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগের চেষ্টা

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!