ব্রাজিলের ফুটবল মানেই নান্দনিকতা, ড্রিবলিং ও সাম্বার ছন্দ। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির শক্তি। প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে ব্রাজিল দল এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন, জিপিএস, টাচস্ক্রিন এবং ডেটা বিশ্লেষণের সমন্বয়ে ম্যাচ পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলের কোচিং স্টাফ অনুশীলনের প্রতিটি সেশন ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করে খেলোয়াড়দের অবস্থান, চলাফেরা, পাসিং, দূরত্ব বজায় রাখা এবং কৌশলগত ভুলগুলো বিশ্লেষণ করছেন। ম্যাচ চলাকালেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো দ্রুত ভিডিও আকারে প্রস্তুত করে বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে ফুটবলারদের দেখানো হচ্ছে, যাতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের ভুল শুধরে নিতে পারেন।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। একটি ফিফার তৈরি, অন্যটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একটি প্রযুক্তি সহযোগীর সহায়তায় পরিচালিত। এসব প্ল্যাটফর্ম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রতিপক্ষের কৌশল, দৌড়ের পরিসংখ্যান, গোলের ধরণ ও ম্যাচ বিশ্লেষণের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করছে।
ব্রাজিল দলের ফিজিওলজিস্ট গিলিয়ের্মে পাসোস জানান, প্রযুক্তি বিশ্লেষণের গতি বাড়ালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও কোচিং স্টাফই নেয়। এআই শুধু তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে সহায়তা করছে, সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
মাঠের কৌশলের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও পুনরুদ্ধারেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে ব্রাজিল। জিপিএস ডিভাইসের মাধ্যমে দৌড়ের গতি, দূরত্ব ও শারীরিক চাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্মার্ট রিং ও ব্রেসলেটের সাহায্যে খেলোয়াড়দের ঘুমের মান বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চোট থেকে দ্রুত সেরে উঠতে বরফ থেরাপি, কম্প্রেশন বুট, লেজার, আলট্রাসাউন্ড, শকওয়েভ ও টেরাথেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সেলেসাও।
বিশ্বকাপে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ব্রাজিল, যা আধুনিক ফুটবলে নতুন এক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

