ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

গাইবান্ধায় এসপির বাংলোয় ভিডিও কলে স্ত্রীকে রেখে কনস্টেবলের আত্মহত্যা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

গাইবান্ধায় এসপির বাংলোয় ভিডিও কলে স্ত্রীকে রেখে কনস্টেবলের আত্মহত্যা

ছবিঃ সংগৃহীত

গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের (এসপি) সরকারি বাংলোয় দায়িত্ব পালনকালে হাবিবুর রহমান (৩৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে বাংলোর একটি বাথরুম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী জেলা শহরের সরদারপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মন্টু মিয়া। তিনি বিবাহিত এবং তার ৮ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন।

ভিডিও কল চালু রেখেই বাথরুমে প্রবেশ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দায়িত্ব পালনকালে হাবিবুর রহমান তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ভিডিও কল চালু রেখেই এসপির সরকারি বাংলোর একটি বাথরুমে প্রবেশ করেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।

দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাথরুম থেকে বের না হওয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তারা দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে হাবিবুরকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।

সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে হাবিবুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় কনস্টেবল হাবিবুর রহমান আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পরিবারের জন্য রেখে গেলেন ৮ বছরের সন্তান

হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তার এমন মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। তিনি স্ত্রী ও ৮ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন।

তবে পারিবারিক কলহের প্রকৃত কারণ বা আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো বিষয় ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!