জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং উত্তেজনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ও ছাত্রশিবির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ
সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে তাকে একটি রিকশায় তুলে দেওয়া হয়। একইভাবে জিএস আব্দুল আলিম আরিফকেও ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ছিলেন। যদিও এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
কয়েকজন আহত
সংঘর্ষে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তি ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কারও অবস্থা গুরুতর নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ক্যাম্পাসে বাড়তি নিরাপত্তা
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবন, প্রশাসনিক এলাকা এবং প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য এখনো মেলেনি
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রদল কিংবা ছাত্রশিবির—কোনো পক্ষ থেকেই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান জানার অপেক্ষায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ছাত্রসংগঠনকে সংযত আচরণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

