ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন

ডিপিডিসির বিরুদ্ধে ৪১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ, এলটিইউর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

ডিপিডিসির বিরুদ্ধে ৪১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ, এলটিইউর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) বিরুদ্ধে প্রায় ৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) নিরীক্ষায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া, বিক্রয় তথ্য গোপন এবং উৎসে ভ্যাট কর্তনে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এলটিইউ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ডিপিডিসির আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন (সিএ রিপোর্ট), মাসিক ভ্যাট রিটার্ন এবং অন্যান্য নথির মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে। নিরীক্ষকদের দাবি, এই সময়ে প্রায় ৭৩০ কোটি ১১ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিক্রির তথ্য ভ্যাট রিটার্নে প্রদর্শন করা হয়নি। এর ফলে প্রায় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার ভ্যাট রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়নি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ‘আদার অপারেটিং ইনকাম’ খাতে প্রায় ১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা কম দেখানো হয়েছে, যার বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ভ্যাট পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া উৎসে ভ্যাট (উইথহোল্ডিং ভ্যাট) কর্তন ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট ইতোমধ্যে ডিপিডিসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটিকে বকেয়া ভ্যাটের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুন নাহার এবং নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ হায়দার আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। যথাযথ তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!