ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উৎসে কর (উইথহোল্ডিং ট্যাক্স) কর্তন ও জমা কার্যক্রম তদারকিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এ কার্যক্রমের নামে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
সোমবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই বলেছে, কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আয়কর আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর পরিপালনকারী (কমপ্লায়েন্ট) প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় হয়রানির মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না।
এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন ও জমা কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য কর কর্মকর্তারা দেশের যেকোনো বাণিজ্যিক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, ব্যবসা কেন্দ্র কিংবা প্রাঙ্গণে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন।
এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় কর কর্মকর্তারা হিসাবের বই, ভাউচার, চালান, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদসহ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র পরীক্ষা করতে পারবেন। এছাড়া কম্পিউটার, সার্ভার, ক্লাউড স্টোরেজ, ডিজিটাল ডেটাবেজ এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্যও যাচাই করার ক্ষমতা থাকবে তাদের। প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশনযুক্ত তথ্যেও আইন অনুযায়ী প্রবেশের সুযোগ থাকবে।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, এ ধরনের পরিদর্শনে কোনো প্রতিষ্ঠান বাধা দিলে বা অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই বলেছে, কর প্রশাসনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর পরিশোধ ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের যেন অযথা হয়রানি বা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনো শতভাগ কর পরিপালন নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদেরও তা বাস্তবায়নের জন্য যৌক্তিক সময় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া উচিত। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সহযোগিতামূলক মনোভাব রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ডিসিসিআই মনে করে, সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্য অর্জনে কর ব্যবস্থার অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর ব্যবস্থাপনা চালু হলে ব্যবসায়ীদের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি কমবে, একই সঙ্গে কর আদায়ের দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজস্ব আহরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ—দুটি লক্ষ্যই একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব। এজন্য এনবিআর ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে নিয়মিত গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকার ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে কর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের প্রবণতাও বাড়বে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এনবিআরের নতুন তদারকি কার্যক্রম স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলেও তা যেন কোনোভাবেই বৈধ ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে এবং কর প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করে।

