ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

উপসর্গ বদলে আরও ভয়ংকর ডেঙ্গু: জ্বরের সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়া, ঝুঁকিতে কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

উপসর্গ বদলে আরও ভয়ংকর ডেঙ্গু: জ্বরের সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়া, ঝুঁকিতে কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গ

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই রোগটির প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু আক্রান্তের সংখ্যাই নয়, পরিবর্তন এসেছে ডেঙ্গুর উপসর্গেও। এবার তীব্র জ্বর ও শরীরব্যথার পাশাপাশি অনেক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি, লিভারসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের মতো শুধু জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ ভেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হলে রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আক্রান্ত ১২ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যু ৩৯

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৯ জনের। রাজধানীর পাশাপাশি জেলা শহর এবং গ্রামীণ এলাকাতেও রোগটির বিস্তার বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উপসর্গে নতুন পরিবর্তন

চিকিৎসকদের মতে, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগের তুলনায় অনেক রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা ও শরীরব্যথার পাশাপাশি ডায়রিয়া, বমি, পানিশূন্যতা এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।

গুরুতর অবস্থায় কিডনি, লিভার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হচ্ছে।

সময়ে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ঈশিতা বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গের পরিবর্তনের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, "রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে প্রায় ৯০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে দেরি হলে জটিলতা অনেক বেড়ে যায়।"

তিনি আরও বলেন, জ্বর কমে গেলেই রোগী সুস্থ হয়ে গেছেন—এমন ধারণা ভুল। জ্বর কমার পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ এ সময়ই জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গাইডলাইন হালনাগাদ ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের দাবি

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর ডেঙ্গুর ধরন ও উপসর্গে পরিবর্তন আসছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন (ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন) হালনাগাদ করা জরুরি।

তারা প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে না।"

সতর্ক থাকার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং জ্বর হলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

তাদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসাই ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!