গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে চরম অবহেলার অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সচিব তানভীর-আল-নাসীফ স্বাক্ষর করেন।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সীমানা প্রাচীর টপকে সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি মোছা. রিম্পা (২১) পালিয়ে যান। ঘটনার পর কারা কর্তৃপক্ষ ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ঘটনার তদন্তে কারা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে জেলার শিরিন আক্তারের অবহেলা ছিল। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তীতে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
বরখাস্তকালীন ভাতা পাবেন
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন শিরিন আক্তার।
তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন রিম্পা

কারা সূত্রে জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়া নারী কয়েদি মোছা. রিম্পা রাজধানীর ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া তিন মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি গত ৯ জুলাই থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
তিন দিন পর হাজারীবাগ থেকে গ্রেপ্তার
কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে কারা অধিদপ্তর এবং পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়।
শেষ পর্যন্ত রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে র্যাব-২ অভিযান চালিয়ে রিম্পাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দি তদারকি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

