ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

চট্টগ্রাম বন্দরে ৫৭ বিপজ্জনক রাসায়নিক কন্টেইনার, বাড়ছে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে ৫৭ বিপজ্জনক রাসায়নিক কন্টেইনার, বাড়ছে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের শঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত

১০ থেকে ২০ বছর ধরে পড়ে আছে শতাধিক ‍‍`ডিজি কার্গো‍‍`; ধ্বংসের উদ্যোগ জটিলতায় আটকে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি।

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা শত শত বিপজ্জনক রাসায়নিকবাহী (ডিজি কার্গো) কন্টেইনার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরে প্রায় ৩৫০টির বেশি বিপজ্জনক পণ্যবাহী কন্টেইনার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি নিলামের অপেক্ষায় এবং অন্তত ৫৭টি কন্টেইনার ধ্বংসযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হলেও এখনো অপসারণ করা হয়নি। কয়েকটি কন্টেইনার থেকে ইতোমধ্যে রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ায় অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

সম্প্রতি বন্দরের রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু কন্টেইনার ১০ থেকে ২০ বছর ধরে বন্দরে পড়ে রয়েছে, এমনকি ২০০৩ সালে আমদানি হওয়া কন্টেইনারও এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

ডিজি কার্গোর মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরক, দাহ্য তরল, বিষাক্ত রাসায়নিক, অক্সিডাইজিং পদার্থ, কীটনাশক, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিক্যালসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুযায়ী এসব পণ্য বিশেষ তাপমাত্রা ও পৃথক সংরক্ষণ ব্যবস্থায় রাখতে হয়।

বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের মতে, কাস্টমসের শুল্কায়ন জটিলতা, মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ, অতিরিক্ত শুল্ক এবং বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় অনেক আমদানিকারক পণ্য খালাস না নিয়ে বন্দরে ফেলে রাখেন। ফলে বছরের পর বছর ধরে এসব কন্টেইনার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, নতুন আমদানিকৃত বিপজ্জনক রাসায়নিক সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কেমিক্যাল শেড নির্মাণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সেগুলো সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পুরোনো কন্টেইনারগুলো দ্রুত ধ্বংস করা জরুরি, অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংসে সুনামগঞ্জে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বিশেষ ইনসিনারেটর ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্থ বরাদ্দ, কারিগরি শর্ত ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন জটিলতায় প্রায় সাত মাস ধরে কার্যক্রম আটকে রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, এমওইউর খসড়া নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে বিপজ্জনক কন্টেইনার ধ্বংসের কাজ শুরু করা যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। তাই দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক রাসায়নিকবাহী কন্টেইনার বন্দরে পড়ে থাকা শুধু বন্দর নয়, আশপাশের শিল্পাঞ্চল ও জনবসতির জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত এসব কন্টেইনার অপসারণ ও ধ্বংসের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!