ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

জ্বালানি নিরাপত্তায় আরও ৪.৮ লাখ টন তেল আমদানি করছে সরকার, ব্যয় ৭,৬৭২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

জ্বালানি নিরাপত্তায় আরও ৪.৮ লাখ টন তেল আমদানি করছে সরকার, ব্যয় ৭,৬৭২ কোটি টাকা

ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ৯০ দিনের মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ; আমদানি হবে ৩.৯ লাখ টন ডিজেল ও ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে আরও ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এ জ্বালানি সরবরাহ করবে। পুরো আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এ উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতোমধ্যে এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের চাহিদা বিবেচনায় সরকার সাধারণত প্রতি ছয় মাস পরপর ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানি করে থাকে। প্রশাসনিক অনুমোদন শেষে এখন বিপিসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।

বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তির পর দ্রুত জ্বালানি তেল দেশে আসতে শুরু করবে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরকারের লক্ষ্য তা ৯০ দিনে উন্নীত করা।

বিপিসির তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকি, জাহাজ ভাড়া ও যুদ্ধঝুঁকি বিমা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থিতিশীল রয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত মূল্য বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌক্তিক বলে মনে করছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং ডলার পরিস্থিতি সত্ত্বেও এলসি খোলায় অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা নেই। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলা বাস্তবায়ন এবং মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!