বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কর বা ফি আরোপের পরিকল্পনা করতে পারে ইরান। এমন মন্তব্য করেছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেলুম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাকে ওয়াশিংটন সীমিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করলেও বাস্তবে তা ভৌগোলিকভাবে আরও বিস্তৃত, অধিক তীব্র এবং আগের তুলনায় বেশি নির্ভুল। তার মতে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এমন একটি নতুন বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে এ নৌপথ ব্যবহারকারী সব ধরনের জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সেই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কর বা ফি আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে।
বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করলেও হরমুজ প্রণালিতে কর আরোপের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ওমান আগ্রহ দেখায়নি।
মুহানাদ সেলুম বলেন, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্র বাতিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানকে বার্তা দিতে চাইছে যে, নৌপথে চলাচল সীমিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে ইরানের তেল অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে আঘাত হানার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরান দীর্ঘ সময় ধরে তার তেল ট্যাংকারগুলো স্থবির অবস্থায় রাখতে পারবে না। একপর্যায়ে দেশটিকে হয় সামরিক উপায়ে তেল রপ্তানির পথ নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হবে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

