ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা, দেশে ফিরে যা জানালেন অপু বিশ্বাস

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা, দেশে ফিরে যা জানালেন অপু বিশ্বাস

ছবিঃ সংগৃহীত

নেপালে আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো শুটিং টিম। পাহাড়ি দেশটির প্রতিকূল আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থার নানা সংকটের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত শুটিং শেষ করে নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরেছেন তারা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান অপু বিশ্বাস। দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতি ও সেখানে দেখা মানবিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি।

শুটিং করতে গিয়ে দুর্যোগের মুখে টিম

কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিত নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিংয়ে অংশ নিতে সম্প্রতি নেপালে যান অপু বিশ্বাসসহ বাংলাদেশ ও কলকাতার একাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী।

নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে সিনেমাটির বিভিন্ন দৃশ্যের শুটিং চলছিল। শুরুতে অনুকূল পরিবেশ থাকলেও হঠাৎ করে আবহাওয়ার ব্যাপক অবনতি ঘটে। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

কোথাও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, আবার কোথাও পাহাড় ধসে যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শুটিংয়ের পাশাপাশি টিমের নিরাপদ চলাচল ও দেশে ফেরার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দ্রুত শুটিং শেষ করে ফেরার সিদ্ধান্ত

পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হতে থাকায় ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং টিম দ্রুত কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আবহাওয়া ও যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করা হয়।

অপু বিশ্বাস জানান, নেপালে অবস্থানকালে তাদের টিম বড় কোনো বিপদের মুখে পড়েনি। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পুরো টিমকে একসঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ ছিল না।

দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেপালে থাকা অবস্থায় তারা বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েননি। শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

‘এই দুর্যোগ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়’

নেপালের দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অপু বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘এই দুর্যোগটা আসলে খুবই দুঃখের এবং খুবই কষ্টের, যেটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কারণ হতাহতরা হয়তো আমার আপনজন নয়, কিন্তু তারা আমার আপন এবং আপনাদেরও আপন।’

নেপালের মানুষের দুর্ভোগ খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, যেসব পরিবার সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তারাই এই কষ্টের গভীরতা সবচেয়ে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

অপু বিশ্বাস বলেন, নেপালে অবস্থানকালে স্থানীয় মানুষের কথা শুনেছেন এবং তাদের আহাজারি দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

স্বচক্ষে দেখেছেন মানুষের আহাজারি

অভিনেত্রী বলেন, ‘যাদের খুব বড় ক্ষতি হয়, এটা তারাই বলতে পারে। যেহেতু আমরা স্বচক্ষে নেপালিদের কথা শুনেছি, আহাজারি দেখেছি, এটা ভাষায় কীভাবে বলব, এটা আমার জানা নেই।’

তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগ ও মানুষের কষ্ট তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। অনেক এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়ে।

নিরাপদে ফিরলেও মনে রয়ে গেছে নেপালের স্মৃতি

সিনেমার শুটিং শেষ করে নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও নেপালের দুর্যোগের স্মৃতি সহজে ভুলতে পারছেন না অপু বিশ্বাস।

একদিকে নতুন সিনেমার শুটিং শেষ করার আনন্দ, অন্যদিকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ—দুটি ভিন্ন অনুভূতি নিয়েই দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী।

‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ক্যামেরায় ধারণ করার পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতাও টিমটির সফরকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

অপু বিশ্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দেশে ফিরতে পারলেও নেপালের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও স্বজন হারানোর আহাজারি তার মনে গভীর দাগ কেটেছে। ফলে এই সফর তার কাছে শুধু একটি সিনেমার শুটিং সফর নয়, বরং এক ভয়াবহ মানবিক অভিজ্ঞতারও সাক্ষী হয়ে থাকল।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!