ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

নেপালে হড়পা বান ও হিমধসে বিহারে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা, হাই অ্যালার্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

নেপালে হড়পা বান ও হিমধসে বিহারে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা, হাই অ্যালার্ট

ছবিঃ সংগৃহীত

নেপালের পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক হড়পা বান ও হিমধসের ঘটনায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটির দুর্যোগের প্রভাব এবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের বিহার রাজ্যেও পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপাল থেকে নেমে আসা বিপুল পাহাড়ি ঢল গণ্ডক নদী হয়ে বিহারে প্রবেশ করায় রাজ্যজুড়ে ‘হাই অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নেপালে হিমধস ও আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও পানির তোড়ে আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণ্ডক নদীতে পাহাড়ি ঢল, বিহারে বন্যার শঙ্কা

বিহার প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নেপালের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানি গণ্ডক নদীর প্রবাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পানি উত্তর বিহারের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বাল্মীকিনগর ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, নেপাল থেকে ধেয়ে আসা পানির প্রবাহ প্রায় সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে গণ্ডক নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ ও সারণসহ ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাঁধের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি

বন্যার সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহার প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি জোরদার করেছে। নদীর বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি রাতে নিয়মিত টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের চাপে নদীর পানি দ্রুত বাড়লে বাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকায় কোনো ধরনের দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে বন্যপ্রাণী

বন্যার আশঙ্কায় বাল্মীকিনগর টাইগার রিজার্ভের বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পেলে বন্যপ্রাণীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বন্যার পানি কোন কোন এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নেপালে হিমধস ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাহাড়ি অঞ্চল

এদিকে নেপালের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। হিমধস ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে দেশটির রসুয়াসহ অন্তত তিনটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানির তোড়ে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং পানির তোড়ে এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, প্রবল পানির স্রোত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীদের কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও বাড়তে পারে প্রাণহানি

নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া কঠিন।

উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর কাজও চলছে।

সীমান্ত পেরিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

নেপালের পাহাড়ি ঢল সরাসরি ভারতের বিহারের গণ্ডক নদীর পানি বাড়িয়ে দেওয়ায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নদী অববাহিকার নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীর পানি, ব্যারাজের প্রবাহ এবং বাঁধের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বর্তমানে বিহারে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো—নেপাল থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে গেলে গণ্ডক নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে উঠে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!