বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, শুল্কনীতি এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণের চ্যালেঞ্জের মুখে রপ্তানি আয়ে পতনের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত অপ্রচলিত বাজারগুলোতে রপ্তানিতে বড় ধরনের ধস দেখা গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম।
অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। সবচেয়ে বড় অপ্রচলিত বাজার জাপানে রপ্তানি কমে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও তুরস্কেও উল্লেখযোগ্য হারে রপ্তানি কমেছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ব্রাজিল ও চীনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে এ প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ এবং কানাডায় ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই তিন বাজারে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির অংশ এখন ৩৫ শতাংশেরও বেশি।
পণ্যের ধরন অনুযায়ী, নিট পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাক রপ্তানি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। এ খাতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী সোর্সিং নেটওয়ার্ক, ক্রেতাভিত্তিক যোগাযোগ এবং সহজ ব্যাংকিং ব্যবস্থা না থাকায় রপ্তানি সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া এসব বাজারে ছোট আকারের অর্ডার আসে, যা দেশের বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন কাঠামোর সঙ্গে অনেক সময় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, আন্তর্জাতিক শুল্কযুদ্ধ এবং চীন-ভারতের আগ্রাসী বাণিজ্যিক কৌশল বাংলাদেশের রপ্তানিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি এলডিসি থেকে উত্তরণের কারণে ভবিষ্যতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় ইউরোপের অনেক ক্রেতাও নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে বাজারভিত্তিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেন সহজীকরণ, শুল্ক বাধা কমানো, সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের ঘোষিত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

