ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইডিবির ১.৪ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইডিবির ১.৪ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। বাংলাদেশ সরকার ও আইডিবির মধ্যে এ-সংক্রান্ত অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইডিবির পক্ষে সংস্থাটির কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাস আইসামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা হবে তিন গুণ

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা যায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর এ সক্ষমতা বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। অর্থাৎ বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় তিন গুণ হবে।

এর ফলে দেশে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল আরও বেশি পরিমাণে দেশেই পরিশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।

উৎপাদন হবে ইউরো-৫ মানের জ্বালানি

প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশবান্ধব ও উন্নতমানের জ্বালানি উৎপাদন। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।

উন্নতমানের জ্বালানি উৎপাদনের ফলে দেশের জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জ্বালানি আমদানিতে নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম ওঠানামা করায় দেশের জ্বালানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ানো হলে দেশে বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজন কিছুটা কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, দীর্ঘমেয়াদে এ প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিপিসি বাস্তবায়ন করবে প্রকল্প

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে আইডিবির কোনো একক প্রকল্পে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অর্থায়ন। ফলে প্রকল্পটি শুধু দেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেই নয়, বাংলাদেশ ও আইডিবির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ-আইডিবি সহযোগিতায় নতুন মাত্রা

আইডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে অর্থায়ন এবং রপ্তানি ঋণ গ্যারান্টি।

ইস্টার্ন রিফাইনারির মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে আইডিবির বড় অঙ্কের অর্থায়ন দুই পক্ষের উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইডিবি চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ

অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আইডিবি চেয়ারম্যান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।

প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যকার সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ?

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উন্নতমানের জ্বালানি উৎপাদন এবং জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার সময়ে দেশে নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় ও পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতি, শিল্প ও পরিবহন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!