ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, চাকরি হারানোর শঙ্কায় ৬ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, চাকরি হারানোর শঙ্কায় ৬ লাখ মানুষ

ছবিঃ সংগৃহীত

জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, সার উৎপাদনে ধস এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—সব মিলিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘায়িত সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রায় ৬ লাখ কর্মজীবীর কর্মসংস্থান সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি শিল্প, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একসঙ্গে কয়েকটি ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে

কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ—এসব চ্যালেঞ্জ সামলে অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘায়িত সংঘাত নতুন করে সংকট তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির মূল্য বৃদ্ধি দেশের পরিবহন, বিদ্যুৎ, শিল্প ও কৃষি—প্রায় প্রতিটি খাতের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয়ই বাড়ে না; এর প্রভাব পড়ে পণ্য পরিবহন, কৃষি উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ফলে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

এলএনজিতে বাড়ছে সরকারের ব্যয়ের চাপ

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশে স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন কমে আসার পাশাপাশি আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে নির্ধারিত সময়ে সরবরাহে সমস্যার কথা জানিয়েছে। ফলে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নের সময় আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম প্রায় ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠে যায়। অথচ যুদ্ধ ও বর্তমান ভূরাজনৈতিক সংকটের আগে বাংলাদেশ সাধারণত প্রায় ১০ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে এলএনজি আমদানি করত।

অর্থাৎ একই পরিমাণ জ্বালানি কিনতে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির ওপর।

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, উচ্চমূল্যের এলএনজি ও দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে সরকারের জ্বালানি ভর্তুকির চাপ জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে। এর আর্থিক পরিমাণ আনুমানিক ২৫০ কোটি থেকে ৪৮০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

এত বড় অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাড়াতে হলে সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পসহ অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদনে ধসের আশঙ্কা

বাংলাদেশের শিল্প খাতের বড় একটি অংশ গ্যাসনির্ভর। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু গ্যাসের চাপ কমে গেলে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে শিফট কমাতে হয়, উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয় কিংবা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম উৎপাদন করতে হয়।

জ্বালানির উচ্চমূল্য ও গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমানো, বিনিয়োগ স্থগিত কিংবা কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু বড় শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও ছড়িয়ে পড়বে।

ঝুঁকিতে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান।

বহুমুখী অর্থনৈতিক ধাক্কা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

এর মধ্যে উৎপাদন কমে যাওয়া, কারখানার শিফট কমানো, নতুন নিয়োগ বন্ধ হওয়া এবং বিদ্যমান কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, শিল্পাঞ্চলগুলোতে এর কিছু লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। নতুন গ্যাস-সংযোগ না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সময় বা শিফট কমাচ্ছে। পোশাক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কর্মসংস্থান কমে গেলে এর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রভাব পড়বে পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে। আয় কমলে ভোগব্যয় কমবে, ব্যবসায় বিক্রি কমবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বাড়ছে দারিদ্র্যের ঝুঁকি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা একসঙ্গে চললে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালেই বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ আগের তুলনায় বেশি আর্থিক চাপে পড়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, গড় মূল্যস্ফীতির হার কমলেও মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের বাস্তব চাপ পুরোপুরি কমেনি।

বিশেষ করে খাদ্য, পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বাড়তে থাকলে নিম্নআয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে।

সারের বাজারেও অস্থিরতা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে কৃষি খাতে।

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশেই রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি হেক্টর আবাদি জমিতে গড়ে প্রায় ৩৯২ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়লে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে যায়।

চলতি বছরের মার্চের শুরুতে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের ছয়টি বড় ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটির উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলে কয়েকটি কারখানা উৎপাদনে ফিরলেও সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষিতে পড়তে পারে দ্বিমুখী চাপ

জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষককে দুই দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

একদিকে সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়বে, অন্যদিকে সেচ, পরিবহন ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়বে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়লেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে বোরো ও আমন মৌসুমে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাদ্য উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হবে এবং এর প্রভাব আবার খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে পড়তে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কি আবার ফিরছে?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। এবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে—তবে এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নতুন ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি।

মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু তেলের দাম নয়, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, বিমা ব্যয়, সরবরাহ চেইন এবং আমদানি ব্যয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এসব বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপ সৃষ্টি করে।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ

অর্থনীতির জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—জ্বালানি, সার ও পরিবহন ব্যয় একসঙ্গে বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়তে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়ে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় বাড়ে। এর সঙ্গে সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়লে খাদ্য উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়।

ফলে একটি খাতের সংকট ধীরে ধীরে পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

নীতিনির্ধারকদের সামনে কঠিন সমীকরণ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে একসঙ্গে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে—জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, শিল্প উৎপাদন সচল রাখা, সার আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান রক্ষা করা।

এর পাশাপাশি বাড়তি জ্বালানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও উন্নয়ন ব্যয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও কঠিন হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আগেই জ্বালানি আমদানির বহুমুখীকরণ, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, সার মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন।

সামনে কী?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্যবাজার কত দ্রুত স্থিতিশীল হয় তার ওপর।

সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হলে জ্বালানি ও সারবাজারে চাপ কিছুটা কমে আসতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এলএনজি ও জ্বালানির উচ্চমূল্য, গ্যাস সংকট, শিল্প উৎপাদন হ্রাস, কর্মসংস্থানের ঝুঁকি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কত হবে তা নয়; বরং কীভাবে কর্মসংস্থান, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্যবিমোচনের অগ্রগতি ধরে রাখা যাবে—সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!