ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

উৎসে কর ফাঁকি রোধে দেশজুড়ে এনবিআরের বিশেষ অভিযান, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে মাঠে কর কর্মকর্তারা

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

উৎসে কর ফাঁকি রোধে দেশজুড়ে এনবিআরের বিশেষ অভিযান, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে মাঠে কর কর্মকর্তারা

ছবিঃ সংগৃহীত

উৎসে কর (উইথহোল্ডিং ট্যাক্স) যথাযথভাবে কর্তন এবং নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে গঠিত বিশেষ টিম মাঠপর্যায়ে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, হিসাবপত্র যাচাই এবং উৎসে কর পরিশোধের তথ্য পরীক্ষা করছে।

রোববার (১৯ জুলাই) এনবিআরের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উৎসে কর আদায়ে কঠোর নজরদারি

এনবিআর জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ অনুযায়ী কর কর্মকর্তারা উৎসে কর কর্তন ও জমা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন।

এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো—উৎসে কর যথাযথভাবে কাটা হচ্ছে কি না, সঠিক অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে কি না এবং কর ফাঁকির কোনো সুযোগ রয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করা।

হিসাবপত্র ও ডিজিটাল তথ্যও যাচাই করা হবে

আইন অনুযায়ী, কর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদ, লেনদেনের বিবরণীসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের নথিপত্র পরীক্ষা করতে পারবেন।

এছাড়া প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্যও পরিদর্শন ও যাচাই করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।

এনবিআর বলছে, বর্তমানে অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় কর যাচাই কার্যক্রমেও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রয়োজনে নথি ও ডিভাইস জব্দের ক্ষমতা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উৎসে কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করে নিজস্ব হেফাজতে রাখতে পারবেন কর কর্মকর্তারা।

এছাড়া প্রয়োজনীয় নথির অনুলিপি, ইমেজ বা ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলোতে শনাক্তকরণ সিল বা চিহ্ন ব্যবহারেরও বিধান রয়েছে।

অসহযোগিতায় জরিমানার সতর্কতা

এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭(২) অনুযায়ী কর কর্মকর্তাদের পরিদর্শন বা যাচাইকরণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, তথ্য গোপন কিংবা অসহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ই-চালানে কর জমার নির্দেশনা

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, উৎসে কর্তিত কর অবশ্যই নির্ধারিত আইনি ধারা ও সঠিক অর্থনৈতিক কোড উল্লেখ করে ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এনবিআরের মতে, সঠিক কোড ব্যবহার না করলে কর পরিশোধের তথ্য যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই করদাতা ও কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগ জানাতে ই-মেইল চালু

ধারা ১৪৭-এর প্রয়োগ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা, জটিলতা, হয়রানি বা অভিযোগ থাকলে এনবিআরের গঠিত কমিটির সদস্য সচিবের কাছে assistance147nbr@gmail.com ই-মেইলে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, করদাতাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই অভিযোগ গ্রহণের এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কর প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎসে কর ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি চালু হলে কর ফাঁকি কমবে, রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং সরকারি কোষাগারে কর জমার প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!