চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য খালাস কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, একই চালানে বারবার কায়িক পরীক্ষা, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে বন্দরে পণ্য আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হচ্ছে। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। চিঠিতে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় শুল্ক ও কর পরিশোধ করলেও বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক দিন ধরে কনটেইনার আটকে রাখা হচ্ছে। একই চালানে একাধিকবার কায়িক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সংস্থার পৃথক যাচাইয়ের কারণে খালাস প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে। এতে বন্দরে কনটেইনারের ডেমারেজ, স্টোরেজ চার্জ ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
চেম্বারের দাবি, কাস্টমস আইন-২০২৩ অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক (Risk Management) পদ্ধতিতে দ্রুত পণ্য ছাড়ের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না। এতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বার বলছে, দেশের রপ্তানি ও শিল্প খাতের স্বার্থে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় কায়িক পরীক্ষা কমিয়ে ডিজিটাল ও ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, পণ্য খালাসে অযথা বিলম্ব অব্যাহত থাকলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

