ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

কক্সবাজারের হোটেল থেকে ১,৯৩৮ আইফোন ও ৪০ ল্যাপটপসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

কক্সবাজারের হোটেল থেকে ১,৯৩৮ আইফোন ও ৪০ ল্যাপটপসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক আইফোন, ল্যাপটপ ও বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জামসহ চীনের ছয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন ও ৪০টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। একই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজারের হোটেলে রাতভর অভিযান

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কক্সবাজার শহরের হোটেল সি-প্যালেসে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাত থেকে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত চলা অভিযানে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের সময় হোটেলের সংশ্লিষ্ট কক্ষ ও অন্যান্য স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন এবং ৪০টি ল্যাপটপ। এ ছাড়া বিদেশি পুলিশের ব্যবহৃত যোগাযোগ সরঞ্জামের মতো দেখতে কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে এসব সরঞ্জাম কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং এগুলোর বৈধ কাগজপত্র ছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

ঢাকার পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, অভিযানে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আইফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও কিছু যোগাযোগ সরঞ্জামও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ এখন উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোর ব্যবহার, মালিকানা, দেশে প্রবেশের বৈধতা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য যাচাই করছে।

কয়েক মাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থান

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে শতাধিক চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার দুটি হোটেল ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন।

তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তবে ওই শতাধিক বিদেশি নাগরিকের সবাই কোনো অপরাধে জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক জানান, অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের সঙ্গে কথিত অনলাইন কার্যক্রমের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

আদালত বন্ধ থাকায় কারাগারে পাঠানো

গ্রেপ্তার ছয় চীনা নাগরিককে শুক্রবার আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও আদালত বন্ধ থাকায় বিকেলে কক্সবাজার আমলী আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

তদন্তে যেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ

বিপুলসংখ্যক আইফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধারের ঘটনায় কয়েকটি বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

এত বিপুলসংখ্যক আইফোন ও ল্যাপটপ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল;
এসব ডিভাইসের মালিকানা ও আমদানির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না;
ডিভাইসগুলো অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহার করা হতো কি না;
বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থানের উদ্দেশ্য কী ছিল;
তাদের সঙ্গে দেশে অবস্থানরত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না;
উদ্ধার করা যোগাযোগ সরঞ্জামগুলোর প্রকৃত ব্যবহার কী;
কক্সবাজারের পাশাপাশি দেশের অন্য কোথাও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না।

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

বড় চক্রের সন্ধানের সম্ভাবনা

একসঙ্গে ছয় বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে প্রায় দুই হাজার আইফোন ও ৪০টি ল্যাপটপ উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

পুলিশ বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা কি না, নাকি এর পেছনে বড় কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে—তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।

বিশেষ করে কয়েক মাস ধরে কক্সবাজারে শতাধিক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান এবং তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!