ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

নাটোরে হোমিও চিকিৎসককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

নাটোরে হোমিও চিকিৎসককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, তদন্তে পুলিশ

ছবিঃ সংগৃহীত

নাটোর সদর উপজেলায় আনারুল ইসলাম (নাম) নামে এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার চাঁদপুর বাজার এলাকায় নিজ চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আনারুল ইসলাম রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দাশমারিয়া গ্রামের মৃত আজাহার আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর বাজারে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

দোকানের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে আনারুল ইসলাম চাঁদপুর বাজারে তার চিকিৎসাকেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন। রাত ৮টার দিকে কোনো এক সময় কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা চিকিৎসাকেন্দ্রের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আনারুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছুরিকাঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলছে।

কে বা কারা হত্যা করেছে, তদন্তে পুলিশ

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, আনারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর বাজারে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। রাতে কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো আলামত উদ্ধার হয়েছে কি না, তদন্তের স্বার্থে তা যাচাই করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চিকিৎসকের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক

চাঁদপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দেওয়ায় স্থানীয়দের কাছে আনারুল ইসলাম পরিচিত ছিলেন। তার এমন আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে বাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

হত্যার পেছনে কী কারণ?

এখন পর্যন্ত পুলিশ বা নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!