নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলের দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ৬৯টি নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে নাটোর জেলা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে সিংড়া পৌরসভার নিংইন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম।
অভিযানকালে নিংইন এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা ৬৯টি জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

নির্বিচারে ধরা পড়ছে পোনা ও জলজ প্রাণী
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়ার বিভিন্ন জলাশয়ে একশ্রেণির অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছিলেন। এসব জালের ফাঁস অত্যন্ত ছোট হওয়ায় বড় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পোনা, ছোট মাছ, শামুক, ব্যাঙসহ নানা ধরনের জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে।
ফলে প্রজনন মৌসুমে ব্যাপক হারে পোনা মাছ নিধন হওয়ায় স্থানীয় জলাশয় ও বিলগুলোতে দেশীয় মাছের প্রজনন এবং স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের জাল জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
জানা গেছে, নিংইন এলাকায় অবৈধভাবে চায়না দুয়ারি জাল মজুত ও ব্যবহারের তথ্য পায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। পরে সংস্থাটির তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে অবৈধ জালগুলো জব্দের পর সেগুলো আর পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ না রাখতে ধ্বংস করা হয়। প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘চায়না দুয়ারি জাল মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি’
অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম বলেন, ‘চায়না দুয়ারি জাল আমাদের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এই জালে অতি ক্ষুদ্র পোনা মাছ থেকে শুরু করে কোনো জলজ প্রাণীই রেহাই পায় না।’

তিনি আরও বলেন, চলনবিলের মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে রূপসী চলনবিলে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
চলনবিলের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জোরদার নজরদারি
চলনবিল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও মৎস্যসম্পদের আধার। এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাছ ধরা ও মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। অবৈধ ও ক্ষতিকর জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ শিকার চলতে থাকলে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের প্রজনন কমে যেতে পারে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে স্থানীয় জেলেদের জীবিকাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, বাজার ও জাল বিক্রির স্থানগুলোতে অভিযান এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলনবিলের দেশীয় মাছ, পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

