ঢাকার সাভারে একটি বাড়ি ঘিরে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে ৯টি বিস্ফোরক, বিপুল পরিমাণ গানপাউডার ও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), বোমা ডিসপোজাল ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচটি বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান শেষ হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বুধবার (১২ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হেমায়েতপুরে পাঁচ বিস্ফোরকসহ আটক
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, আরিফ হোসেনকে বেশ কিছুদিন ধরে অনুসরণ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি কিশোরগঞ্জ থেকে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসে করে এসে নামলে তাকে আটক করা হয়।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে পাঁচটি বিস্ফোরক, একটি চাকু ও একটি লাইটার উদ্ধার করা হয়। তবে আটক ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় ও তিনি কী উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরক বহন করছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাত ৮টা থেকে বাড়ি ঘিরে অভিযান
আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুলের পেছনে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাড়িটি ঘিরে রাখার পর সিটিটিসি, বোমা ডিসপোজাল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে তল্লাশি ও নিরাপত্তামূলক অভিযান চালান। বিস্ফোরক থাকার সম্ভাবনা থাকায় সতর্কতার সঙ্গে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হয়।
পরে ওই বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরক, বিপুল পরিমাণ গানপাউডার এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয় এবং আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
বিস্ফোরকগুলোর ধরন ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলোর প্রকৃতি, এগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এগুলো কোথায় বা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা উদ্ধার করা সামগ্রী পরীক্ষা করার পর বিস্ফোরকগুলোর ধরন ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে। একই সঙ্গে আটক আরিফের সঙ্গে ওই বাড়ির মালিক বা সেখানে অবস্থানকারী অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
পুলিশ সূত্র বলছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা সামগ্রীর উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, “হেমায়েতপুর থেকে এক ব্যক্তিকে পাঁচটি বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রী ও নয়টি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান শেষ হয়েছে।”
তবে এ ঘটনায় আর কেউ আটক হয়েছেন কি না, উদ্ধার করা বিস্ফোরকের সুনির্দিষ্ট ধরন কী এবং এগুলো কোনো নাশকতার উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর সাভার ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

