ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে নারী-পুরুষ ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৫১ এএম

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে নারী-পুরুষ ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি চারতলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ একটি ফ্ল্যাট থেকে অজ্ঞাত এক পুরুষ, এক নারী ও সদ্যজাত এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহগুলো পচাগলা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন ভবন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্গন্ধে মিলল তিন মরদেহ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কথিত ওই স্বামী-স্ত্রী গত মাসের ৯ তারিখে নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে ভবনটির দ্বিতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। এরপর থেকে তাদের ঘরের দরজা-জানালা অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকত।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই কক্ষের আশপাশে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটটির দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ একটি পুরুষ, একটি নারী ও একটি নবজাতকের পচাগলা মরদেহ দেখতে পায়।

পুলিশ পরে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উদ্ধার হওয়া পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ কারণে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তবে মরদেহগুলো পচে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দল

ঘটনার খবর পেয়ে সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু করেছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং আশুলিয়া থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আলামত, দরজা-জানালার অবস্থা, মরদেহের অবস্থান এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পরিচয় শনাক্তে একাধিক দলের কাজ

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

ওসি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ পুলিশের

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকা এবং পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

তবে এখনই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, কারা জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তারা ওই ফ্ল্যাটে নিহতরা কতদিন ছিলেন, তাদের সঙ্গে কারও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কি না, ঘটনার আগে বা পরে কেউ সেখানে এসেছিল কি না এবং ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করার সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

বাড়ছে রহস্য

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত ওই দম্পতি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেন না এবং তাদের ঘরের দরজা-জানালা প্রায়ই বন্ধ থাকত। ফলে তাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত পরিচিতি সম্পর্কে আশপাশের বাসিন্দারাও খুব বেশি তথ্য দিতে পারেননি।

একই ফ্ল্যাট থেকে একই সঙ্গে নারী, পুরুষ ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।

তদন্তকারীরা এখন নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পরিচয় নিশ্চিত হলে তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়নাতদন্তের পর মিলবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করছে তদন্তের পরবর্তী ধাপ।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!