ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

অটোরিকশাচালককে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল পুলিশ এসআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:২১ এএম

অটোরিকশাচালককে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল পুলিশ এসআইয়ের

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার সাভারে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা এসআইয়ের মালিকানাধীন একটি মিনি গার্মেন্টস কারখানায় হামলা চালিয়ে মেশিনপত্র ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. আলতাফ হোসেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল ব্রাঞ্চে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলায় গুরুতর আহত তাঁর ছেলে মো. আরিফ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম।

বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর, প্রতিবাদ করায় হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার রাতে নিজের কারখানার কাছাকাছি বাসায় ফেরার পথে কয়েকজন যুবককে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর করতে দেখতে পান এসআই আলতাফ হোসেন।

বৃদ্ধ ওই অটোরিকশাচালককে মারধরের কারণ জানতে চেয়ে এবং ঘটনার প্রতিবাদ করে তিনি যুবকদের থামানোর চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকেরা আলতাফ হোসেনের ওপরও হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর হামলা থেকে বাঁচতে তিনি দৌড়ে তাঁর নিজের কারখানার ভেতরে চলে যান।

১৫-২০ জনকে ডেকে কারখানায় হামলার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলতাফ হোসেন কারখানায় আশ্রয় নেওয়ার পর হামলাকারীরা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে ডেকে আনে। পরে দলবদ্ধ হয়ে তারা আলতাফের মালিকানাধীন কারখানায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলাকারীরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মেশিনপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় কারখানায় থাকা আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফের ওপরও হামলা চালানো হয়।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের মারধরে বাবা ও ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

হামলার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফ গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের মরদেহের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তার পাশাপাশি কারখানা পরিচালনা করতেন

সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, নিহত মো. আলতাফ হোসেন ডিএমপির স্পেশাল ব্রাঞ্চে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। চাকরির পাশাপাশি ওই এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে তিনি মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।

ওসি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এলাকায় উত্তেজনা, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এবং তাঁর কারখানায় হামলার ঘটনায় বরদেশি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা এবং তাঁর মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সূত্রপাত—বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর এবং পরবর্তী সংঘর্ষের কারণ—তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার তদন্তে পুলিশের নজর

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীর সংখ্যা এবং হামলার সঙ্গে কারা জড়িত—তদন্তের পর এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!