ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

আন্ডারওয়্যারে ক্যাপসুলে লুকানো কোটি টাকার স্বর্ণ! শাহ আমানত বিমানবন্দরে ভারতীয় যাত্রী আটক

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

আন্ডারওয়্যারে ক্যাপসুলে লুকানো কোটি টাকার স্বর্ণ! শাহ আমানত বিমানবন্দরে ভারতীয় যাত্রী আটক

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব কৌশলে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি বড় প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে আসা এক ভারতীয় যাত্রীর আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণজাত পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে এয়ার অ্যারাবিয়ার G9-526 ফ্লাইটে শারজাহ থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ভারতীয় নাগরিক থামিম আনসারি।

 বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার পর আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া CIID-এর আঞ্চলিক কার্যালয়, চট্টগ্রামের একটি বিশেষ টিম তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে যাত্রীকে নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে তল্লাশি করা হলে তার আন্ডারওয়্যারের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ক্যাপসুলসদৃশ কয়েকটি স্বর্ণজাত পদার্থ উদ্ধার করা হয়। চোরাচালানকারীরা যাতে সহজে ধরা না পড়ে, সে উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে এসব ক্যাপসুল দেহের সঙ্গে সংযুক্ত করে বহনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, প্যাকিং সামগ্রীসহ উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর মোট ওজন ৪৫৫ গ্রাম। বর্তমানে স্বর্ণকারের সহায়তায় প্যাকিং উপাদান আলাদা করে প্রকৃত স্বর্ণের ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণের কাজ চলছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার পর উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের সঠিক পরিমাণ এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করা হবে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিশুদ্ধতা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই মূল্য আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

এ ঘটনায় কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে নিশ্চিত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত যাত্রীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চোরাচালানকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করলেও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য এবং লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের মাধ্যমে এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!