বোর্ডিং গেটে ধরা পড়ে ভিসা জালিয়াতি; মানবপাচার সিন্ডিকেটে বিমানবন্দরের কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা
গোপন সংকেত (কোড) ব্যবহারে গরমিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৭৬ বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়ায় পাচারের একটি বড় চেষ্টা ভেস্তে গেছে। ট্যুরিস্ট ভিসায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাদের পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও বোর্ডিং গেটে ভিসা ও পাসপোর্টে অসংগতি ধরা পড়ায় পুরো চক্রটি প্রকাশ্যে আসে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বোর্ডিং গেটে নির্ধারিত গোপন কোড বলতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচ যাত্রীর বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে যাচাই-বাছাইয়ে ১৫ জনকে অফলোড করা হয় এবং একই সিন্ডিকেটের আরও কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও গোয়েন্দা নজরদারিতে আটকা পড়েন। শেষ পর্যন্ত ৭৬ জনের মালয়েশিয়া যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ‘শাপলা’সহ কয়েকটি গোপন কোড ব্যবহার করে মানবপাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশনের বিভিন্ন ধাপ পার করত। গোয়েন্দাদের দাবি, ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে এসব যাত্রীকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে সেখানে অবৈধভাবে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তদন্তে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক অ্যারোড্রাম অপারেটরের নাম এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। অন্যদিকে বেবিচক জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

