ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে ৭ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসব ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুই ভারতীয় নাগরিক বিপুল পরিমাণ কুশভর্তি ট্রলি রেখে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিমানবন্দরের নিচতলার আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেলে অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি কুশসহ হুসাইন আব্দুল কাদের শেখ (৪৮) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ও বিমানবন্দর কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। দুপুরের দিকে ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে আসা হুসাইন আব্দুল কাদের শেখকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তার ট্রাভেল ট্রলি ব্যাগে তল্লাশি চালানো হলে কাপড়ের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা কুশের সন্ধান পাওয়া যায়।
ট্রলির কাপড়ের নিচে ৩ কেজি কুশ
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, তল্লাশির সময় ওই যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৩ কেজি কুশ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার ভারতীয় পাসপোর্ট, বোর্ডিং কার্ড, মোবাইল ফোন, ৪০০ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৫৫০ থাই বাথ, ৪০০ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয় ও বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়া।
বাংলাদেশে চোরাকারবারি চক্রের যোগসাজশের তথ্য
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হুসাইন আব্দুল কাদের শেখ বাংলাদেশে কয়েকজনের সহযোগিতায় অবস্থানের ব্যবস্থা এবং মাদক চোরাচালানে সহযোগিতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
তবে এই চোরাচালানের সঙ্গে বাংলাদেশে কারা জড়িত, মাদকটি কোথায় যাওয়ার কথা ছিল এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চার দিন আগেও একই কায়দায় কুশ উদ্ধার
শুধু শনিবারের অভিযান নয়, এর মাত্র কয়েক দিন আগেও একই বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল থেকে বিপুল পরিমাণ কুশ উদ্ধার করেছিল ডিএনসি।
গত ১৮ আগস্ট ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একই টিজি-৩২১ ফ্লাইটে আসা দুই ভারতীয় নাগরিকের ট্রলি থেকে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, ওই দুই যাত্রী হলেন আকাশ দুবাই (২৮) ও আকাশ পান্ডে (৩৪)। তারা তল্লাশির আগেই বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যান। তবে তাদের দুটি ট্রলি ও ভারতীয় পাসপোর্টের ফটোকপি রেখে যান।
পরে সন্দেহজনক ট্রলি দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে কুশের চালানটি উদ্ধার করা হয়। পলাতক দুই ব্যক্তি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার গন্ডালপাড়ার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ডিএনসি।
ব্যাংকক রুটে নজরদারি বাড়ানোর প্রশ্ন
দুটি ঘটনায়ই একই ধরনের একটি বিষয় সামনে এসেছে—ব্যাংকক থেকে ঢাকায় আসা যাত্রীদের মাধ্যমে কুশের চালান আনার চেষ্টা। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই রুটের ফ্লাইট থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দর দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি ও তল্লাশি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শুধু বহনকারীকে শনাক্ত নয়, এসব চালানের মূল হোতা, অর্থদাতা, গ্রহণকারী ও স্থানীয় সহযোগীদের শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
দুই ঘটনায় মামলা
ডিএনসি জানিয়েছে, পৃথক দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি এবং পলাতক দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলাগুলোর বাদী হয়েছেন ডিএনসির বিমানবন্দর সার্কেলের উপপরিদর্শক রোকেয়া আক্তার। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে আইনগত ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ ও ২২ আগস্টের পৃথক দুই অভিযানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৭ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব চালানের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিষয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

