ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

শিশু হত্যার অভিযোগে দিনাজপুরে মহাসড়ক অবরোধ, ৬ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

শিশু হত্যার অভিযোগে দিনাজপুরে মহাসড়ক অবরোধ, ৬ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক

ছবিঃ সংগৃহীত

দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় অভিযুক্ত রিপন টুডুর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং বাড়ির আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল মহাসড়কে এনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের জামতলী বাজার এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শিশুকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ

স্থানীয় ও শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে জামতলী বাজারসংলগ্ন নশিপুর-খোশালপুর এলাকার এক সন্তানের জননী জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে জিন্নাতুন তার চার বছরের শিশুকন্যা রাকিবা আক্তার রুহিকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে আশ্রয় নেন।

স্বজনদের দাবি, প্রায় এক মাস আগে শিশু রুহিকে রিপন টুডু হত্যা করে কোথাও মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় জিন্নাতুনকেও মারধর, হাত-পা বেঁধে রাখা এবং ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

জিন্নাতুনের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত দিন আগে তিনি কৌশলে রিপনের বাড়ি থেকে বের হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি কয়েক মাসের নির্যাতনের কথা জানান এবং তার শিশুকন্যাকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।

আবারও জিন্নাতুনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

এর মধ্যে শনিবার রাতে রিপন টুডু ছুরির ভয় দেখিয়ে জিন্নাতুনকে তার বাবার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়।

রোববার সকালে কয়েক গ্রামের মানুষ জামতলী বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে রিপন টুডুকে গ্রেপ্তার এবং শিশু রুহির সন্ধানের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা রিপন টুডুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। বাড়ির আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল বাইরে এনে মহাসড়কের ওপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্বজনদের বক্তব্য

জিন্নাতুনের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় তিন মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে রিপন টুডু তার ভাতিজিকে নিয়ে যান। সাত দিন আগে জিন্নাতুন পরিবারের কাছে ফিরে এসে নির্যাতনের কথা জানান এবং তার শিশুকন্যাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি বলে পরিবারের অভিযোগ। শনিবার আবারও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিন্নাতুনকে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

স্থানীয় বাসিন্দারাও দাবি করেন, শিশু রুহি হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে কোতওয়ালি থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

পুলিশের বক্তব্য

দিনাজপুর কোতওয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ নুরনবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত রিপন টুডুর বাড়িঘর ও আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং কিছু মালামালে আগুন দিয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দ্রুত উদঘাটন করা হবে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস

বিক্ষোভের খবর পেয়ে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে যান। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত রিপন টুডুকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি পুলিশকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে সংসদ সদস্য জিন্নাতুনের বাবার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন।

তিনি দ্রুত জিন্নাতুনকে উদ্ধারের পাশাপাশি শিশু রুহির নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

শিশু রাকিবা আক্তার রুহি আদৌ হত্যার শিকার হয়েছে কি না, তার অবস্থান কোথায় এবং জিন্নাতুনকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অভিযুক্ত রিপন টুডুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!