রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন তারা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন ট্রেন নির্ধারিত স্টেশনে আটকে পড়ে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন কয়েক শত শিক্ষার্থী। আন্দোলনের ফলে রাজশাহী রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লা ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ট্রেনে ভ্রমণের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পরিচয় জানার পরও মারধর করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রতি নয়, বরং সমগ্র শিক্ষার্থী সমাজের প্রতি অপমান। অভিযুক্ত টিটিইকে দ্রুত ঘটনাস্থলে এনে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানার পরও একজন শিক্ষার্থীর ওপর এমন বর্বর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আজ যদি এর প্রতিবাদ না করি, তাহলে আগামীতে যেকোনো শিক্ষার্থী বা সাধারণ যাত্রী একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।"
তবে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে আন্দোলনকারীরা সাময়িক ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা নয়; বরং অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা।
এদিকে অবরোধের কারণে রাজশাহী রেলস্টেশন ও আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে পড়ে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত টিটিই সুমনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে উপস্থিত করা না হলে তারা রেললাইন ছাড়বেন না।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা

