দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ৭৩ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই অল্প পরিসরে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আবাসন সংকটের সমাধান, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বৈষম্যহীন আধুনিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।
রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয়। পরে ৬ জুলাই রাজশাহী কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ এবং প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলন—দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের রক্ষায় পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
বর্তমানে প্রায় ৩০৪ হেক্টর আয়তনের সবুজ ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ১২টি অনুষদের অধীনে ৫৯টি বিভাগ, একাধিক ইনস্টিটিউট, প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষক, ১৭টি আবাসিক হল এবং গবেষকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ডরমেটরি।
দীর্ঘ পথচলায় ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম, তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর, চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম ও ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেনসহ বহু কৃতী ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে নানা অর্জনের পাশাপাশি আবাসন সংকট এখনো অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মাত্র ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন আবাসিক হল নির্মাণ, সিট বাণিজ্য বন্ধ এবং গবেষণায় আরও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়ানো, আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

