ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

‘ছাগলকাণ্ড’ আলোচিত মতিউরের দুর্নীতি মামলায় বিচার শুরু, জামিন নামঞ্জুর

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

‘ছাগলকাণ্ড’ আলোচিত মতিউরের দুর্নীতি মামলায় বিচার শুরু, জামিন নামঞ্জুর

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা এবং ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামির অব্যাহতির আবেদন ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি. এম. তারিকুল কবীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন আসামি মতিউর রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জামিন ও অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদনই খারিজ করে দেন এবং বিচার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।

কী অভিযোগ রয়েছে?

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে আসে, মতিউর রহমান তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং সরকারি চাকরির সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মতিউর রহমান ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার অবৈধ সম্পদ নিজের নামে অর্জন করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০২৪ সালে দায়ের হয় মামলা

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচনায় আসেন

২০২৪ সালের কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি ছাগল কেনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়। ওই ছাগল কেনা নিয়ে ইফাত নামের এক তরুণের ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হলে এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের নামও আলোচনায় আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হলে তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ায় মামলাটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!