ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মাদ্রাসায় আটকা প্রায় ৩০ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মাদ্রাসায় আটকা প্রায় ৩০ শিশু

ছবিঃ সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় একটি মাদ্রাসার ভেতরে প্রায় ৩০ শিশু আটকা পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে কক্সবাজার জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার নয়টি উপজেলার অর্ধশতাধিক ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ঈদগাঁও, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও টেকনাফের লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এরপর সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৩ ঘণ্টায় ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের বড়ছড়া এলাকায় পাহাড়ধসে এক গৃহবধূ এবং উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে মাটির ঘর ধসে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার রাতে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসে আট রোহিঙ্গা, কক্সবাজার শহরে একজন এবং পেকুয়ায় এক শিশুর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে গত দুই দিনে পাহাড়ধস ও ঘরধসের ঘটনায় জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে।

রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। এ সময় ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি ১,৬১৪টি আশ্রয় আংশিক এবং ১০টি আশ্রয় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!