ঢাকা কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য চালান খালাস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে। বিসিএস ৪০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়াই পণ্য খালাস, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ একটি আমদানি চালানে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়ার পর কাস্টম হাউসের তদন্তে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া একজন সাধারণ শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে পণ্য খালাসের অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় কাস্টমস প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তদারকি, পণ্য চালানের মূল্যায়ন এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা কাস্টম হাউস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক চালানকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এরই মধ্যে সার্বিক বিষয় তদন্তে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু করেছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাকিব আনাম খানকে কুরিয়ার ইউনিট থেকে সরিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের অন্য একটি শাখায় বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
৩৫ হাজার টাকার শুল্কে খালাস, তদন্তে ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি
কাস্টম হাউস সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট ঢাকা কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে ফুলএভার বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি করে। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৯৯২৬২৩।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কাগজপত্রে কাগজ আমদানির ঘোষণা দিয়ে প্রকৃতপক্ষে আরএফ লেভেল (RF Label) আমদানি করে। কিন্তু পণ্যের প্রকৃত পরিচয় ও শুল্কযোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই না করেই চালানটির বিপরীতে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করা হয়। পরে কুরিয়ার ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান চালানটি খালাসের অনুমতি দেন।
বিষয়টি কাস্টম হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর চালানটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে ঘোষণার সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের অসংগতি ধরা পড়ে। এতে সরকারের প্রায় ৭৬ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ফুলএভার বিডি লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। তবে মামলা দায়েরের আগেই পণ্য চালানটি খালাস হয়ে যাওয়ায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বকেয়া শুল্ক-কর আদায় করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর কুরিয়ার ইউনিটের আরও ৩১টি পণ্য চালান সন্দেহের তালিকায় এনে প্রিভেন্টিভ টিমের মাধ্যমে আটকে দেওয়া হয়েছে। এসব চালানে কোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি বা মিথ্যা ঘোষণার ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্রমিকের এনআইডিতে পাঁচ দিনে ৪০টি চালান খালাসের অভিযোগ
কুরিয়ার ইউনিটে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পণ্য আমদানি ও খালাসের ঘটনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, একজন সাধারণ শ্রমিকের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে পণ্য চালান খালাস করা হয়েছে। এসব চালান ডেল্টা কার্গো মিডিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খালাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ-সংক্রান্ত যেসব বিল অব এন্ট্রি নম্বর পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১০৯৯৬৯৫, ১০৯৯৭৫৬, ১০৯৯৭৪৫, ১০৮৮৭৩০, ১০৮৮৭০২, ১০৮৮৭১২, ১০৮৪৬৪২, ১০৮৪৫৪৮, ১০৮৩৩৪৫, ১০৮৩৩৩৯, ১০৮৩৩৫৪, ১০৮৩৩৫১, ১০৭৯৬৯২, ১০৮০৯৩৭, ১০৭৮৭১৮, ১০৮০৯৮২ ও ১০৭৯৪৭৮সহ আরও কয়েকটি বিল অব এন্ট্রি।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন সাধারণ শ্রমিকের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কীভাবে এত অল্প সময়ে প্রায় ৪০টি আমদানি চালান খালাস হলো? এসব চালানের প্রকৃত আমদানিকারক কারা, পণ্যের মূল্য ও পরিমাণ কী ছিল এবং পরিচয়পত্রের সত্যতা যাচাই না করেই কীভাবে শুল্কায়ন ও খালাসের অনুমতি দেওয়া হলো?
কাস্টমসের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে আমদানিকারকের পরিচয় যাচাই, পণ্যের ঘোষণা পরীক্ষা এবং শুল্ক-কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে একাধিক পর্যায়ের প্রক্রিয়া থাকার কথা। সেখানে ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে এতগুলো চালান খালাসের অভিযোগ উঠায় পুরো ব্যবস্থার নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নমুনা পণ্যের কুরিয়ার ইউনিটে বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের অভিযোগ
কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট মূলত নমুনা পণ্য আমদানির জন্য নির্ধারিত। বিশেষ করে ঋণপত্র বা এলসি ছাড়া কুরিয়ারের মাধ্যমে আমদানি করা নির্দিষ্ট ধরনের নমুনা পণ্য এ ইউনিট দিয়ে খালাসের ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি বছরে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানির সুযোগ পান।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান কুরিয়ার ইউনিটের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের প্রবণতা বেড়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ফ্রেইটের তুলনায় কুরিয়ার ইউনিটে বেশি বিল অব এন্ট্রি দাখিল হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সাধারণত বড় পরিসরের বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ফ্রেইট ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্য আনার নিয়ম রয়েছে। অথচ কুরিয়ার ইউনিটের মাধ্যমে এসব পণ্য খালাসের সুযোগ তৈরি হলে শুল্কায়ন ও নজরদারির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কিছু আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কুরিয়ার ইউনিটকে বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এভাবে বন্ডের ফেব্রিকস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য পর্যন্ত মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে খালাসের অভিযোগ রয়েছে।
কুরিয়ার ইউনিটে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ
কাস্টম হাউসের একাধিক সূত্রের দাবি, সাকিব আনাম খান কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে দুটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব সিন্ডিকেট বিভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে আমদানি পণ্য খালাসের কার্যক্রম পরিচালনা করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যরা আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পণ্য চালান খালাসের ব্যবস্থা করতেন। এ ক্ষেত্রে পণ্যের প্রকৃত বিবরণ, মূল্য ও শুল্কযোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই না করার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব সিন্ডিকেটের সদস্য কারা, তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথিপত্র রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ভুয়া পরিচয়পত্রে পণ্য খালাসের পুরোনো ঘটনাও রয়েছে
কুরিয়ার ইউনিটে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পণ্য খালাসের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও এক ব্যক্তির পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কুরিয়ারের মাধ্যমে নকল সিগারেটের ব্যান্ডরোল আমদানির ঘটনা ঘটেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই চালান আটকের পর পরিচয়পত্রে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে শুল্ক ফাঁকির মামলা করে কাস্টম হাউস। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, যাঁর নামে পণ্য আমদানি করা হয়েছিল, তিনি প্রকৃতপক্ষে ওই পণ্য আমদানি করেননি। তাঁর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অন্য কেউ আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজের পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও করেন।
এ ধরনের ঘটনা কুরিয়ার ইউনিটে আমদানিকারকের পরিচয় যাচাই এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটেও অনিয়মের অভিযোগ
ঢাকা কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনের আগে সাকিব আনাম খান রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, সেখানে ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি এবং আর্থিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
সূত্রের দাবি, অভিযোগের পর তৎকালীন রাজশাহী ভ্যাট কমিশনার তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। প্রায় দুই মাসের মাথায় তাঁর পদায়ন পরিবর্তন করা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ঢাকা কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার আগে অ্যাসেসমেন্ট গ্রুপে কর্মরত থাকাকালেও সুবিধা না পেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মকালীন অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা বিভাগীয় সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্ত শুরু, অন্য শাখায় বদলি
সর্বশেষ ফুলএভার বিডি লিমিটেডের চালানে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য সামনে আসার পর ঢাকা কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কুরিয়ার ইউনিটের আরও ৩১টি চালান আটকে দিয়ে সেগুলোর কাগজপত্র ও পণ্যের বিবরণ যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খানকে ঢাকা কাস্টম হাউসের অন্য একটি শাখায় বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে তাঁকে অন্য শাখায় বদলি করার সিদ্ধান্তটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, নাকি এটি নিয়মিত প্রশাসনিক পদায়নের অংশ—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত করলেন কমিশনার
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার রইচ উদ্দিন খান বলেন, কুরিয়ার ইউনিটে একজন আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য চালান খালাস করেছেন। পরে কাস্টম হাউসের তদন্তে সেখানে আরএফ লেভেল পাওয়া গেছে। এতে সরকারের প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী পণ্য চালান পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কমিশনারের বক্তব্যে চালানটির মিথ্যা ঘোষণা ও রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হলেও এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা এবং অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার সহকারী কমিশনারের
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান।
ফুলএভার বিডি লিমিটেডের চালান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের কম মূল্য ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে শুল্ক ফাঁকির মামলা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন ওঠে, চালানটির প্রকৃত শুল্ক-কর প্রায় ৭৬ লাখ টাকা হওয়ার পরও কীভাবে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়া হলো? এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ ছাড়া ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রির পণ্য খালাস, সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্য ছাড় এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজস্ব সুরক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
একটি চালানে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য, ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক চালান খালাস এবং কুরিয়ার ইউনিটে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাস্টমসের মতো রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠানে পণ্যের সঠিক ঘোষণা, আমদানিকারকের পরিচয় যাচাই এবং যথাযথ শুল্কায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বৈধ আমদানিকারকরাও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন।
এ অবস্থায় ফুলএভার বিডির চালানসহ সন্দেহভাজন ৩১টি চালানের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, ভুয়া এনআইডি ব্যবহারকারীদের শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের ভূমিকা যাচাই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষ করে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়ার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

