বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নে এ খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে পোশাকশিল্প থেকে। অথচ এ শিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে যেসব শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করেন, তাঁদের অনেকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন কাটছে বিদ্যুৎ সংকট, অতিরিক্ত গরম এবং আর্থিক চাপের মধ্যে।
ঢাকার জোহরাবাদে প্রায় ১৫০ বর্গফুটের একটি টিনের ঘরে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন পোশাক শ্রমিক ইয়াসমিন। ছোট্ট ঘরটিতে রয়েছে মাত্র একটি বৈদ্যুতিক পাখা। গরমের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরের ভেতরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রচণ্ড গরম সহ্য করতে হয়, আবার কখনো একটু বাতাসের আশায় রাস্তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হয় তাঁকে।
ইয়াসমিনের অভিজ্ঞতা দেশের অসংখ্য পোশাক শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। কারখানায় উৎপাদন চালু রাখতে জেনারেটরসহ বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুযোগ থাকলেও শ্রমিকদের আবাসিক জীবনে সেই সুবিধা নেই। ফলে কর্মস্থলে উৎপাদন সচল থাকলেও ঘরে ফিরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অসহনীয় গরমের সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাঁদের।
বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা দায়
অ্যাপারেল এক্সপোর্ট লিমিটেডের পোশাক শ্রমিক শিরিন থাকেন রাজধানীর টেকনিক্যাল এলাকায়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো মাসে বিদ্যুৎ বিল ৮০০ টাকার বেশি আসে। এরপরও গরমে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। শরীর খারাপ লাগলে স্যালাইন খেতে হয়।
একই কারখানার অপারেটর আহমদ আলী থাকেন মাজার রোড এলাকায়। তাঁর অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিবারের সদস্যদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে রাতে নারীদের ঘর থেকে বের হয়ে একটু স্বস্তি খুঁজে নেওয়াও সহজ নয়। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া ও বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি খরচ সামলাতে হয়।
আহমদ আলীর ভাষ্য, কারখানায় জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও বাসায় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। ফলে দিনের কর্মব্যস্ততার পর বাসায় ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার বদলে গরমের সঙ্গে লড়াই করতে হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুধু শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে না, তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বস্তিতেও প্রভাব ফেলছে। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অভাবে পরদিন কাজে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিক, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে ছোট ঘরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর ভোগান্তি বেশি।
অর্থনীতিতে বড় অবদান, শ্রমিকের আবাসনে সুবিধা সীমিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) তৈরি পোশাকশিল্পের অবদান প্রায় ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। পণ্য রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৬২ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। পোশাকশিল্পের রপ্তানি আয় প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
এত বড় অর্থনৈতিক অবদান থাকা সত্ত্বেও এ শিল্পের শ্রমিকদের আবাসন, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে নিজস্ব বিদ্যুতের একটি অংশ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এ সুবিধা এখনো সব কারখানায় সমানভাবে বিস্তৃত হয়নি।
সিপিডি ও বিআইজিডির গবেষণা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩১ শতাংশ পোশাক কারখানায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। সিপিডির হিসাবে, তিন হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার ছাদ ব্যবহার করে ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পোশাকশিল্পের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৩ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। এ সক্ষমতা বাড়িয়ে ১৪ শতাংশে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের পোশাক খাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশে ২৯০টি পোশাক কারখানা লিড (LEED) সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম এবং ১৪৫টি গোল্ড সনদপ্রাপ্ত। বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া ১০০টি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে ৫৩টিই বাংলাদেশে।
তবে কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শ্রমিকদের বাসায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কারখানায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সরাসরি শ্রমিকদের আবাসিক এলাকায় সরবরাহের কোনো সাধারণ ব্যবস্থা নেই। ফলে শিল্পের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসিক বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে পৃথক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
শ্রমিক আবাসনে সৌরবিদ্যুতের মিনি-গ্রিডের প্রস্তাব
পোশাক শ্রমিকদের আবাসিক এলাকায় সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের মিনি-গ্রিড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, আবাসিক ভবনের ছাদ, খোলা জায়গা কিংবা খাসজমি ব্যবহার করে এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে শ্রমিকদের জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ তৈরি হতে পারে।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেসরকারি উদ্যোক্তা, এনজিও এবং সরকারি উন্নয়ন তহবিলকে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে মিনি-গ্রিড কার্যকর করতে বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা এবং অর্থ পরিশোধের স্বচ্ছ কাঠামো থাকা জরুরি। বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা দিতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশের কয়েকটি দুর্গম ও চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে মিনি-গ্রিড ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেন্ট মার্টিন, মনপুরা ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত ব্যবস্থার সমন্বয়ে হাইব্রিড মিনি-গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পোশাকশিল্প এলাকার শ্রমিকদের আবাসনেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে।
তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যেমন—মিনি-গ্রিড স্থাপনে মোট বিনিয়োগ কত হবে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত নির্ধারণ করা হবে, শ্রমিকদের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সেই দাম সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং স্থাপিত ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ওপর থাকবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা এবং জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
অতিরিক্ত গরমে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকদের ভোগান্তি শুধু ঘুম ও বিশ্রামের সমস্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘ সময় গরম পরিবেশে থাকার কারণে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, ত্বকের সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিবেশ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাভেদে এসব ঝুঁকির মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রামের সুযোগ না থাকলে পানিশূন্যতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অতিরিক্ত গরম শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অসুস্থতার কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকতে হলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণের চাপও বাড়তে পারে।
তাঁর মতে, গাছপালা ও জলাভূমি কমে যাওয়া, যানবাহনের চাপ, পাকা সড়ক, কাচনির্ভর উঁচু ভবনের বিস্তার এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার নগরাঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই গরমের প্রভাব কমাতে শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়, পরিবেশগত বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
শিল্পাঞ্চল ও শ্রমিক আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত গাছপালা, উন্মুক্ত জায়গা, জলাধার এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ানো গেলে তাপের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
স্বাস্থ্যসেবা ও আয়-সহায়তার প্রয়োজন
সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মো. সেকেন্দার আলী মিনা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত গরমের প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের সুরক্ষায় আয়-সহায়তা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার মতো উদ্যোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিল্পকারখানার ভেতরের পরিবেশের পাশাপাশি তাঁদের বসবাসের পরিবেশকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারখানায় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, বিশুদ্ধ পানি, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্ভরযোগ্য করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ মনে করেন, নীতিসহায়তা বাড়ানো গেলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ভোক্তা, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের কর অবকাশ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
সরকারের উদ্যোগ ও শিল্পমালিকদের বক্তব্য
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে যৌথভাবে কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। কারখানার পরিবেশ ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হয়। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকার কর ও শুল্ক কমিয়েছে।
অন্যদিকে অনন্ত গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, কারখানায় বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা কমাতে ভেন্টিলেশন এবং এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা হয়। তবে এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে গরমের প্রভাব পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।
তাঁর বক্তব্যে শিল্পকারখানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। তবে শ্রমিকদের আবাসিক এলাকার বিদ্যুৎ ও তাপমাত্রাজনিত সমস্যার সমাধানে কারখানার বাইরে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা, শ্রমিকদের জন্য কতটা সুফল?
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই শ্রমিকদের আবাসিক বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে না। উৎপাদিত বিদ্যুৎ কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে, কত দামে সরবরাহ করা হবে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো কীভাবে এ সুবিধা পাবে—সেসব বিষয়ও পরিকল্পনায় থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের আবাসিক এলাকায় সৌরবিদ্যুতের মিনি-গ্রিড চালু করা গেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় মৌলিক বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাখা, আলো ও মোবাইল চার্জের মতো প্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।
এ জন্য সরকার, পোশাকশিল্প মালিক, বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্রমিকদের মতামত, আবাসিক এলাকার বাস্তবতা ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নকশা তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু সেই শিল্পের শ্রমিকদের ঘরে যদি বিদ্যুৎ ও স্বস্তির অভাব থেকে যায়, তাহলে টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্য পূর্ণতা পাবে না। তাই কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসিক জীবনমান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎপ্রাপ্তিকে শিল্প উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ করার দাবি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

