জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান উৎস মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেকই অর্জন করতে পারেনি সংস্থাটি। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ২৮ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা।
শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই ব্যর্থতা নয়, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও ভ্যাট আদায় কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এনবিআর আদায় করেছিল ৩৩ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ভ্যাট আদায় কমেছে ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। এ সময়ে ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে এনবিআরের তিন প্রধান রাজস্ব আহরণকারী খাতের মধ্যে ভ্যাটকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তুলনামূলক শক্তিশালী উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরুতেই এ খাতের এমন নেতিবাচক চিত্র রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, বাজেটের ব্যয় নির্বাহ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অর্থায়নেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ভ্যাট রিটার্ন জমার সময়সীমা মাসিক থেকে তিন মাস অন্তর করার সিদ্ধান্তের বিরূপ প্রভাব আদায়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, নিয়মিত রাজস্ব প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তবে এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ভ্যাট আদায় কমার পেছনে বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কম রাজস্ব আসাসহ কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছেন।
ভ্যাট আদায়ে ২৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সংস্থাটির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট খাত থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।
বছরের প্রথম তিন মাসের হিসাব বলছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ভ্যাট আদায়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও আদায় হয়েছে ২৮ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের সামান্য বেশি অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
একই সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায়ও আদায় কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৩৩ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা আদায় হলেও চলতি অর্থবছরে তা কমে ২৮ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকায় নেমেছে। ফলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণে যেমন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তেমনি প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক ধারায় চলে গেছে।
রাজস্ব আহরণে এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে। যদিও এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ডিসেম্বরের মধ্যে আদায় বাড়ার বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন।
ডিসেম্বরের মধ্যে আদায় বাড়ার আশা এনবিআরের
ভ্যাট আদায় কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা কম ভ্যাট এসেছে। এ ছাড়া আরও কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায় কম হয়েছে। সব মিলিয়ে সামগ্রিক আদায়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভ্যাট আদায় বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এনবিআরের এ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, বড় করদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব না আসা সামগ্রিক আদায়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। তবে সামনের মাসগুলোতে আদায় বাড়াতে কী ধরনের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় বৃহৎ করদাতা ইউনিটে
এনবিআরের মাঠপর্যায়ের ভ্যাট কার্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) ভ্যাটে। বড় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ করদাতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের দায়িত্বে থাকা এ ইউনিটের রাজস্ব আদায়ে বড় পতন সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সূত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এলটিইউ ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।
এলটিইউ ভ্যাটে এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ৩১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও এ ইউনিটে ভ্যাট আদায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৃহৎ করদাতা ইউনিটে এমন পতন সামগ্রিক ভ্যাট আদায়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। কারণ, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, উৎপাদনকারী কোম্পানি এবং উচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় হওয়া ভ্যাট জাতীয় রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চট্টগ্রাম ও ঢাকা দক্ষিণেও ঘাটতি
ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি শুধু বৃহৎ করদাতা ইউনিটেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রাম এবং রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হয়নি।
চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৬৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। ফলে এ কমিশনারেটে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৭৮ কোটি টাকা। একই সময়ে বরিশাল ভ্যাট কমিশনারেটেও ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিভিন্ন কমিশনারেটে আদায়ের এ চিত্র থেকে বোঝা যায়, ভ্যাট আহরণের দুর্বলতা একক কোনো কার্যালয়ে সীমাবদ্ধ নয়। তবে কমিশনারেটভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা, প্রকৃত আদায় ও প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান যাচাই করে সামগ্রিক ঘাটতির কারণ নির্ধারণ করা জরুরি।
তিন মাস অন্তর রিটার্ন জমার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন
ভ্যাট আদায়ের এমন পরিস্থিতির পেছনে রিটার্ন জমার সময়সীমা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন এনবিআরের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, আগে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকায় সরকার নিয়মিত রাজস্ব পেত। কিন্তু তিন মাস অন্তর রিটার্ন জমার সুযোগ চালু হওয়ায় রাজস্ব জমার সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য (ভ্যাট নীতি) ড. আব্দুর রউফ কালবেলাকে বলেন, এক যুগ ধরে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের গড় প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভ্যাট আদায় আরও ৩ থেকে ৪ শতাংশ বাড়ার কথা। অথচ প্রথম তিন মাসে উল্টো ঋণাত্মক ১৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তাঁর মতে, পর্যাপ্ত সমীক্ষা ছাড়াই ভ্যাট আহরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য তিন মাস অন্তর রিটার্ন জমার নিয়ম চালু করায় রাজস্ব আদায়ের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ড. আব্দুর রউফের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাসিক রিটার্ন জমার নিয়মে সরকার নিয়মিত বিরতিতে ভ্যাট পেত। কিন্তু তিন মাস অন্তর রিটার্ন জমার সুযোগ থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় অন্য ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিতে পারে। কর্মীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের কিস্তি এবং সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের পর ভ্যাট জমা দেওয়ার কারণে সরকারের কাছে অর্থ আসতে দেরি হতে পারে।
তবে রিটার্ন জমার সময়সীমা পরিবর্তনই ভ্যাট আদায় কমার একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিশদ তথ্য ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি, উৎপাদন ও বিক্রির পরিমাণ, বড় করদাতাদের রাজস্ব প্রদান এবং প্রশাসনিক সক্ষমতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে কর্মকর্তাদের অভিযোগ
এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, ভ্যাট রিটার্ন জমার সময়সীমা পরিবর্তনের পাশাপাশি বর্তমান প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতাও রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন, কমিশনার পরিবর্তন এবং বদলির সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।
কর্মকর্তাদের একাংশের অভিযোগ, হঠাৎ কমিশনার পরিবর্তন ও বিভিন্ন অজুহাতে বদলির কারণে মাঠপর্যায়ের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা ঢাকার মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন, অন্যদিকে কিছু কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করতে হচ্ছে। তাঁদের মতে, পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনে এমন বৈষম্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল এবং কাজের গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া, এনবিআরের অতীতের আন্দোলনের পরও প্রশাসনিক অস্থিরতার প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, রাজস্ব আহরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ধারাবাহিকতা, দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এনবিআর প্রশাসনের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও বদলির সিদ্ধান্ত ভ্যাট আদায়ের ঘাটতিতে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
রাজস্ব ঘাটতিতে বাজেট বাস্তবায়নে চাপের আশঙ্কা
ভ্যাট বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান উৎস। পণ্য ও সেবা সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়ে এ কর আদায় করা হয়। ফলে ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি কমে গেলে সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব সংগ্রহে চাপ তৈরি হতে পারে।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে সরকারকে ব্যয় সংকোচন, অন্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ অথবা ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর মতো বিকল্প বিবেচনা করতে হতে পারে। এতে বাজেট বাস্তবায়ন ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য রাজস্বের ধারাবাহিক প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্ব ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে এসব খাতে অর্থ ছাড় ও ব্যয় পরিকল্পনা প্রভাবিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ভ্যাট আদায় বাড়াতে বড় করদাতাদের রাজস্ব প্রদান পর্যবেক্ষণ, রিটার্ন জমার সময়সীমার পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন, কর ফাঁকি প্রতিরোধ এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে নীতিগত পরিবর্তন কার্যকর করার আগে তার সম্ভাব্য রাজস্ব প্রভাব বিশ্লেষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ভ্যাট আদায়ে ২৮ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার ঘাটতি এনবিআরের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহৎ করদাতা ইউনিটে উল্লেখযোগ্য পতন, রিটার্ন জমার সময়সীমা পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আদায় বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআর আশাবাদী হলেও, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব নীতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং কার্যকর তদারকির সমন্বিত উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

