সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের বিল থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ইউপি সদস্যকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতার বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
উন্নয়ন প্রকল্পের বিল থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন। প্রকল্পটির কাজ শেষ করার পর বিল পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।
ইউপি সদস্যের অভিযোগ, ওই প্রকল্পের বিল থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন সিরাজুল ইসলাম তোতা। দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিল আটকে দেওয়ার কথা বলা হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে সরোয়ার হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তোতা। এর প্রতিবাদ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ইউপি সদস্যকে কিল-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। তবে অভিযোগকারী ইউপি সদস্যের দাবি, তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
‘নিজের টাকা খরচ করে কাজ করেছি’
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, নিজের টাকা খরচ করে তিনি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর প্রকল্পের বিল আটকে রয়েছে।
তাঁর দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব চেক প্রস্তুত করে রেখেছেন। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে চেক না দিতে সচিবকে বলা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার বক্তব্য
অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম তোতা রায়গঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহসভাপতি এবং সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোতা। তিনি বলেন, ইউপি সদস্যের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি স্থানীয় বিএনপির নেতারা সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনের বক্তব্য
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি তাঁর সামনেই ঘটেছে। ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত ও বিচার দাবি
উন্নয়ন প্রকল্পের বিল থেকে চাঁদা দাবি এবং এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রকল্পের বিল আটকে রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্তের ফল জানা যায়নি। ফলে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য।

