ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

menu

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক, ইতিহাস গড়লেন শেখ রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক, ইতিহাস গড়লেন শেখ রহমান

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকেরা। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই প্রধান দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজ নিজ আসনে জয় নিশ্চিত করেছেন তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক। তাঁদের মধ্যে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটে আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন শেখ রহমান। অন্যদিকে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভায় রিপাবলিকান প্রার্থী আবুল খানও নিজেদের আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও প্রভাবের ক্ষেত্রে এই জয়কে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের হয়ে তাঁদের নির্বাচনি সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জর্জিয়ায় আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় শেখ রহমানের

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে আবারও জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক শেখ রহমান। মূল নির্বাচনে তাঁর বিপক্ষে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আগেই তাঁর জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। প্রাথমিক গণনায় তাঁর পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট পড়েছে।

এর আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হন।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন তিনি।

এবারও জয় ধরে রাখার মধ্য দিয়ে জর্জিয়ার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করলেন শেখ রহমান। তাঁর এই সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

নিউ হ্যাম্পশায়ারে ছয় মেয়াদের ধারাবাহিকতায় আবুল খান

রিপাবলিকান পার্টির হয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহাম ৩০ আসনে প্রতিনিধি পদে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবুল খান। পিরোজপুরের সন্তান এই রাজনীতিক প্রাথমিক গণনায় ১ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলেন। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

একই আসনে অন্য পদে রিপাবলিকান প্রার্থী জেসন জ্যানভ্রিনও নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১২ সাল থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন আবুল খান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় অবস্থান এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। এবারের জয় তাঁর টানা ছয় মেয়াদের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নিল।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আবুল খানের এই সাফল্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রিপাবলিকান দলের হয়ে তাঁর জয় প্রমাণ করে, বাংলাদেশি-আমেরিকান রাজনীতিকেরা শুধু ডেমোক্রেটিক পার্টিতেই নয়, দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।

কানেকটিকাটে পুনর্নির্বাচিত এমডি মাসুদুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য কানেকটিকাট থেকেও এসেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য সুখবর। স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংস।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘সিটি ইনসাইডার’-এর প্রাথমিক তথ্যেও তাঁর জয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জের সন্তান মাসুদুর রহমান ২০২২ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হন। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হন। এবারও আসনটি ধরে রেখে নিজের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনি অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি।

কানেকটিকাটের রাজনীতিতে তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াচ্ছে।

মার্কিন রাজনীতিতে বাড়ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং বিভিন্ন নির্বাচিত পদে তাঁদের উপস্থিতি ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে শেখ রহমান, আবুল খান ও এমডি মাসুদুর রহমানের পাশাপাশি নাবিলা ইসলাম পার্কস এবং নূরুন নবীসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে শেষ দুজনের প্রার্থিতা না থাকায় এবারের নির্বাচনে শেখ রহমান, আবুল খান ও মাসুদুর রহমানের সাফল্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

তিন রাজনীতিকের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলীয় পরিচয় আলাদা হলেও তাঁদের সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে রয়েছে। একজন ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে জর্জিয়ায়, আরেকজন রিপাবলিকান পার্টির হয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারে এবং অন্যজন ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে কানেকটিকাটে জয় পেয়েছেন।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শেখ রহমান, আবুল খান ও এমডি মাসুদুর রহমানের জয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের হয়ে তাঁদের এই সাফল্য ভবিষ্যতে মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করছেন প্রবাসীরা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!