ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

দীর্ঘ সিজদা, আবেগঘন আলাপ ও ১৭ বছরের স্মৃতি: সংসদ মসজিদে লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে এক ভিন্ন মুহূর্ত

দৈনিক আজ ও আগামীকাল ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

দীর্ঘ সিজদা, আবেগঘন আলাপ ও ১৭ বছরের স্মৃতি: সংসদ মসজিদে লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে এক ভিন্ন মুহূর্ত

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনের মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে এক আবেগঘন সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন এক ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকা বাবরের সেই দৃশ্য, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার স্মৃতি এবং কারাজীবন নিয়ে তাঁর অনুভূতির বর্ণনা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বর্ণনাকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন চলাকালে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে তিনি লক্ষ্য করেন, অধিকাংশ মুসল্লি মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেও একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে সিজদায় রয়েছেন। কয়েক মিনিট ধরে একইভাবে সিজদায় থাকার পর কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

তিনি জানান, নামাজ শেষ হওয়ার পর বাবরের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন। বলেন, তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি প্রয়াত আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে। সে সময় আদালতে বাবর ও তাঁর বাবার একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং আদালতে সাক্ষাতের দিনগুলোতে একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করার স্মৃতিও তুলে ধরেন।

পরিচয় শুনে বাবর আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, মুজাহিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দুজনের কারাজীবনের নানা স্মৃতিও স্মরণ করেন তারা।

আলাপচারিতার এক পর্যায়ে দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকার কারণ জানতে চাইলে বাবর বলেন, তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলেন। তাঁর ভাষ্য, "যদি পারতাম সারাদিন সিজদায় পড়ে থাকতাম। আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবন ও কনডেম সেলের জীবন থেকে আবার সংসদে ফিরিয়ে এনেছেন। আমি যতই শুকরিয়া আদায় করি, তবুও তা যথেষ্ট হবে না।"

বর্ণনাকারী আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিকভাবে বাবরের অতীত ভূমিকা—বিশেষ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত সমালোচনা থাকলেও, সংসদ মসজিদে তাঁর বিনয়, দীর্ঘ সিজদা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দৃশ্য তাঁকে মানবিকভাবে স্পর্শ করেছে।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত অনেকে বাবরের সঙ্গে ছবি তুললেও শুরুতে তিনি নিজে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। পরে স্মৃতি হিসেবে একটি ছবি তুলতে চাইলে বাবর সানন্দে রাজি হন। বিদায়বেলায় তিনি বর্ণনাকারীকে দোয়া করে বলেন, "তোমরা মজলুম পরিবার। ভালো থেকো।"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে একদিকে যেমন দীর্ঘ কারাজীবন শেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসা একজন রাজনীতিকের আত্মিক অনুভূতির কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ছাপিয়ে মানবিক সম্পর্ক ও স্মৃতিরও একটি ভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে।

এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে বর্ণিত মন্তব্য ও অনুভূতিগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজস্ব বক্তব্য; এগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!