ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

অনুমতি ছাড়াই বিদেশে কোম্পানি গঠনের অভিযোগ, স্মার্ট টেকনোলজিস এমডি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তে অগ্রগতি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

অনুমতি ছাড়াই বিদেশে কোম্পানি গঠনের অভিযোগ, স্মার্ট টেকনোলজিস এমডি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তে অগ্রগতি নেই

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও আয় সম্পর্কিত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম বিদেশে অন্তত তিনটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। যদিও এ বিষয়ে প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন দুই ভাই। কোম্পানিটির প্রাথমিক মূলধন ছিল ৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকার সমান। প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ এবং ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’-এ জহিরুল ইসলামের ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের ৮৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। কোম্পানিটির ব্যবসা আফ্রিকাসহ একাধিক অঞ্চলে বিস্তৃত বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমোদনের তথ্য তাদের কাছে নেই। একই সঙ্গে আয়কর নথিতেও বিদেশি কোম্পানিগুলো থেকে অর্জিত আয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থপাচারের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত বছরের মার্চে দুদক একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর তদন্তে আর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

banner
Link copied!