ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

ইমামতি থেকে সফল উদ্যোক্তা, ‘নয়নপুরী লটকন’ বদলে দিয়েছে হাফেজ রোকনউদ্দিনের জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

ইমামতি থেকে সফল উদ্যোক্তা, ‘নয়নপুরী লটকন’ বদলে দিয়েছে হাফেজ রোকনউদ্দিনের জীবন

ছবিঃ সংগৃহীত

জীবিকার তাগিদে একসময় দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় ইমামতি করতেন হাফেজ রোকনউদ্দিন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসরে গাছ লাগানো ছিল তার নেশা। সেই শখই ধীরে ধীরে রূপ নেয় স্বপ্নে। আর সেই স্বপ্নের হাত ধরেই ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামে চার বিঘা জমিজুড়ে গড়ে তুলেছেন দুটি লটকনের বাগান। শুধু ফল বিক্রি নয়, উন্নত জাতের কলম উৎপাদনের মাধ্যমেও গড়ে তুলেছেন লাভজনক একটি কৃষি উদ্যোগ। তার উদ্ভাবিত একটি জাত এখন স্থানীয়ভাবে ‘নয়নপুরী লটকন’ নামে পরিচিত।

বর্তমানে নয়নপুর গ্রামের বাগানজুড়ে ফলের ভারে নুয়ে পড়া লটকনগাছ আর পাইকারদের ভিড় চোখে পড়ে। মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ফল কিনতে আসছেন। একই সঙ্গে উন্নত জাতের কলম সংগ্রহেও ভিড় করছেন কৃষক ও নতুন উদ্যোক্তারা।

রোকনউদ্দিন জানান, ২০১৮ সালে মুক্তাগাছা থেকে মাত্র ৩০টি লটকনের চারা কিনে যাত্রা শুরু করেন। পরে একটি পুরোনো বাগান যুক্ত করে প্রায় ২০০টি গাছ নিয়ে বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন। শুরুতে অনেক গাছ পুরুষ হওয়ায় আশানুরূপ ফলন না পেলেও হাল ছাড়েননি। নিজেই কলম তৈরির কৌশল আয়ত্ত করে উন্নত ফলনশীল গাছ নির্বাচন এবং নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০২৩ সাল থেকে সফলতা মিলতে শুরু করে, আর চলতি মৌসুমে পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

তিনি জানান, গত আট বছরে ৮ থেকে ১০টি জাত নিয়ে কাজ করেছেন। এর মধ্যে দুটি জাত সবচেয়ে ভালো ফল দিয়েছে। একটি জাতের ফল আকারে বড়, খেতে অত্যন্ত মিষ্টি এবং বাজারে এর চাহিদাও বেশি।

এই জাতটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে একটি গল্প। চলতি বছর কৃষিভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর উপস্থাপক শাইখ সিরাজ তার বাগান পরিদর্শন করে গ্রামের নাম অনুসারে জাতটির নাম ‘নয়নপুরী লটকন’ রাখার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই স্থানীয়ভাবে এই নামেই পরিচিতি পায় জাতটি।

বর্তমানে তার এক বছরের কলমের চারা ১০০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই বছরের কলম ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। শুধু কলম বিক্রি করেই বছরে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। এছাড়া বাগানের লটকন প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

রোকনউদ্দিন বলেন, “আমি চাই, যারা আমার কাছ থেকে চারা নেবেন, তারা যেন লাভবান হন। তাই পরীক্ষিত ও ভালো ফলনশীল গাছ থেকেই কলম তৈরি করি।”

গফরগাঁও থেকে আসা কৃষক মো. এনামুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ভিডিও দেখে তিনি ৩২টি কলম কিনেছেন। ফলন ভালো হলে তিনিও বাণিজ্যিকভাবে লটকনের বাগান করবেন।

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, উপজেলার প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হচ্ছে। হাফেজ রোকনউদ্দিনের উৎপাদিত উন্নত জাতের লটকন ও মানসম্মত কলম নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে ভালো মানের চারা উৎপাদনের মাধ্যমে ভালুকার লটকন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

banner
Link copied!