বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, “বিশেষ অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।”
সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে এখনই মন্তব্য নয়
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ বা মামলা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
তিনি বলেন, “সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোবে।”
মিথ্যা মামলা হলে প্রত্যাহার করা হবে
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অভিযোগগুলো তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সরকার আইনানুগভাবে সেসব মামলা প্রত্যাহার করবে।
তিনি বলেন, “যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে মামলাটি ভিত্তিহীন বা মিথ্যা, তাহলে অবশ্যই তা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধর্ষণ মামলায় কোনো ছাড় নয়
আইনমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করবে না।
তিনি বলেন, “যত বড় রাজনৈতিক নেতাই হোক না কেন, ধর্ষণের মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।”
সীমান্তে ‘এক্সট্রা কিলিং’ শূন্যের কোটায়
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে সীমান্তে অতিরিক্ত বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (এক্সট্রা কিলিং) শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
ঘটনাবহুল ছিল সাহাবুদ্দিনের দায়িত্বকাল
মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এই সময়ে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত ব্যক্তি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং এরপরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের অবসান হবে।

