ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

menu

রাজধানীতে আইভি স্যালাইনের সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি ও ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরা

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

রাজধানীতে আইভি স্যালাইনের সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি ও ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরা

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় আইভি স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও ১০০ ও ২৫০ মিলিলিটারের স্যালাইন পাওয়া গেলেও মিলছে না ৫০০ মিলিলিটার ও এক লিটারের ব্যাগ। আবার কোনো কোনো ফার্মেসিতে সব ধরনের স্যালাইনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ করছে না। কোথাও ১০ কার্টন অর্ডার দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র এক কার্টন, আবার কোথাও ১০টি চাইলে দেওয়া হচ্ছে পাঁচটি।

এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইন সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। কোথাও একাধিক ফার্মেসি ঘুরেও স্যালাইন মিলছে না, আবার কোথাও নির্দিষ্ট আকারের ব্যাগ বা পছন্দের ব্র্যান্ড পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো বিক্রেতার দাবি, সংকটের মধ্যে বিকল্প কোম্পানির স্যালাইন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বাড়তি দামে বিক্রি করা নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বিরোধও তৈরি হচ্ছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-২, মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট এলাকার কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রেতাদের কেউ কেউ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনের চাহিদা বৃদ্ধিকে সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের ধারণা, হাসপাতালগুলোতে সরবরাহের চাপ বাড়ায় খুচরা ফার্মেসিতে স্যালাইনের প্রাপ্যতা কমেছে।

অন্যদিকে, উৎপাদনকারী ও ওষুধ খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরকার-নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবধানের কারণে তরল স্যালাইনের উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই ঘণ্টা ঘুরেও মেলেনি স্যালাইন

সাভার থানা রোডের বাসিন্দা হাসনাত পিয়াসের চাচি এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গিয়ে স্যালাইন সংগ্রহের সমস্যায় পড়েন তাঁরা।

হাসনাত পিয়াস জানান, প্রয়োজনীয় স্যালাইন কিনতে আশপাশের একাধিক ফার্মেসিতে ঘুরেও তা পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করার পর পরিচিত একটি ফার্মেসির মাধ্যমে কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে এক লিটারের একটি স্যালাইন সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তাঁরা। পরদিন হাসপাতালে শয্যা খালি হলে তাঁর চাচিকে সেখানে ভর্তি করা হয়।

হাসনাত পিয়াস বলেন, “দুই ঘণ্টা ঘুরে আশপাশের সব ফার্মেসি খুঁজেও একটা স্যালাইন পাইনি। অথচ তখন আমাদের জন্য এটা খুব জরুরি ছিল। কোথায় পাব, বুঝতে পারছিলাম না। পরে এলাকার পরিচিত ফার্মেসির লোক কোম্পানির লোককে ফোন দিয়ে এক লিটারের একটি স্যালাইন জোগাড় করে দেন।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের এমন জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় একটি জিনিস পাওয়া যাবে না, এটা কীভাবে হতে পারে? ফার্মেসিতে গিয়ে জানতে পেরেছি, স্যালাইনের সংকট রয়েছে। সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টিতে নজর দেওয়া।”

পিয়াসের মতো আরও অনেক রোগীর স্বজনকে প্রয়োজনীয় স্যালাইন সংগ্রহে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ফার্মেসির বিক্রেতারা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট পরিমাণের স্যালাইন প্রয়োজন হলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

মিরপুরের ফার্মেসিতে মিলছে না প্রয়োজনীয় সাইজ

রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের নওরীন মেডিসিন কর্নারের বিক্রেতা জানান, তাঁদের ফার্মেসিতে স্যালাইন নেই। তাঁর দাবি, এলাকায় স্যালাইনের সরবরাহ কমে গেছে। ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে সরবরাহের চাপ বেশি থাকায় খুচরা ফার্মেসিগুলোতে পর্যাপ্ত স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না।

একই এলাকার হাসান ড্রাগ হাউজে ১০০ মিলিলিটারের স্যালাইন পাওয়া গেলেও ৫০০ মিলিলিটার ও এক লিটারের স্যালাইন ছিল না। বিক্রেতা জানান, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

মিরপুর-১০ নম্বরের তামান্না ফার্মেসিতে শুধু ২৫০ মিলিলিটারের স্যালাইন পাওয়া যায়। বিক্রেতার দাবি, কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ করছে না। তাঁদের নিজেদের কাছেও প্রয়োজনীয় পরিমাণের স্যালাইন নেই। এ অবস্থায় কিছু হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

একই এলাকার এইচ আর ফার্মার বিক্রেতা বলেন, “আমরা ১০টা অর্ডার দিলে দেয় পাঁচটা। এভাবে হলে কীভাবে হবে? শুনেছি, হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।”

মিরপুর-১০ নম্বরের আলোক হাসপাতালের ফার্মেসিতে স্যালাইন পাওয়া গেলেও বিক্রেতা জানান, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ আসছে না। জরুরি রোগীদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্যালাইন না পেলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা কিংবা শাহবাগে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

অন্যদিকে, শাফিয়া ফার্মা অ্যান্ড ডেইলি মার্টে এক লিটার ও ১০০ মিলিলিটারের কয়েকটি স্যালাইন পাওয়া যায়। তবে সেখানেও সরবরাহ সীমিত।

প্রতিষ্ঠানটির বিক্রেতা বলেন, “আমরা ১০ কার্টন অর্ডার করলে এক কার্টন পাই। কোম্পানি দিচ্ছে না। তারা নাকি হাসপাতালগুলোতে দিয়েই চাহিদা মেটাতে পারছে না।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাঁদের কাছে যে পরিমাণ স্যালাইন রয়েছে, তা একজন ক্রেতাকে দুইটির বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ফার্মেসিগুলোর এসব বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাজধানীর সব এলাকায় একই ধরনের সংকট নেই। কোথাও নির্দিষ্ট মাপের স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও সরবরাহ একেবারেই সীমিত। তবে সরবরাহের প্রকৃত ঘাটতি কতটা, তা নির্ধারণে উৎপাদন, পরিবহন, পাইকারি বিতরণ ও হাসপাতালভিত্তিক সরবরাহের তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন।

ফার্মেসিতে স্যালাইনের দাম নিয়েও অভিযোগ

স্যালাইনের প্রাপ্যতার পাশাপাশি দাম নিয়েও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বিক্রেতা। তাঁদের দাবি, সংকটের মধ্যে বিকল্প কোম্পানির স্যালাইন সংগ্রহ করতে বেশি দাম দিতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি দামে বিক্রি করতে গেলে ক্রেতাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হচ্ছে।

ফার্মগেট এলাকার মা মেডিসিন অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের বিক্রেতা মো. রবিউল জানান, তাঁদের দোকানে সব আকারের স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব সময়ই অল্পবিস্তর ঘাটতি থাকে। তা সত্ত্বেও তাঁদের দোকানে সব সাইজের স্যালাইন রয়েছে।

অন্যদিকে, ফার্মগেটের এমএসডি মেডিক্যাল হলের বিক্রেতা গৌতম চন্দ্র রায় জানান, তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে বেক্সিমকোর স্যালাইন পাচ্ছেন না। অন্য কোম্পানির স্যালাইনও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

গৌতম চন্দ্র রায়ের ভাষ্য, “বেক্সিমকোর ওপর আমার আস্থা বেশি। কিন্তু বেক্সিমকোরটা তো নেই। অন্য কোম্পানিরটাও পাওয়া যায় না। এখন সংকট আছে। অন্য কোম্পানিরটা বাজারে বেশি দামে কিনতে হয়।”

তাঁর দাবি, ৫০০ মিলিলিটারের স্যালাইন স্বাভাবিক সময়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় কেনা গেলেও সংকটের সময় তা কিনতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। বেশি দামে কেনার পর বিক্রি করতে গেলে ক্রেতাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ায় তিনি স্যালাইন বিক্রি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, “কাস্টমারের কাছে এই দাম চাইলে কাস্টমার আমাকে উল্টাপাল্টা কথা বলে। এই জন্য রাখতেছি না। শুধু শুধু কাস্টমারের সঙ্গে ঝগড়া করার দরকার নেই। তার চেয়ে ভালো রাখব না, বেচব না। যার প্রয়োজন, সে খুঁজে নেবে।”

তবে এসব দাম ও সরবরাহসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বাজার পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। স্যালাইনের ক্ষেত্রে সরকার-নির্ধারিত মূল্য ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী দাম যাচাই করাও জরুরি।

ফার্মগেটের লাজ ফার্মার বিক্রেতা শ্যামল চন্দ্র শীল জানান, প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা কোনো কোম্পানির কাছ থেকেই স্যালাইন পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “কোম্পানি সাপ্লাই না দিলে আমরা কোথা থেকে পাব?”

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিকে সংকটের কারণ বলছেন উৎপাদকরা

ওষুধ খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, তরল আইভি স্যালাইনের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে তরল স্যালাইনের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বাড়ানো হয়নি। এ সময়ে আমদানি করা কাঁচামাল, প্যাকেজিং উপকরণ ও উৎপাদনের অন্যান্য খরচ বেড়েছে।

উৎপাদনকারীদের হিসাবে, সরকার-নির্ধারিত ৮৭ টাকার বিপরীতে বর্তমানে প্রতি ব্যাগ স্যালাইন উৎপাদনে প্রায় ১২০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তাঁদের দাবি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের এই ব্যবধানের কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়েছে বা বন্ধ রেখেছে।

তবে উৎপাদন ব্যয়, সরকার-নির্ধারিত মূল্য এবং কোম্পানিভেদে প্রকৃত উৎপাদন খরচের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সব কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি এক নয় বলেও বিবেচনায় রাখতে হবে।

ডেঙ্গুতে চাহিদা বাড়ার দাবি, সরবরাহ কতটা কমেছে?

উৎপাদনকারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সময় তরল স্যালাইনের মাসিক চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ লাখ ব্যাগ থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যাগে পৌঁছেছে। তাঁদের দাবি, বর্তমান সরবরাহ দিয়ে চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মেটানো যাচ্ছে। হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের তরলের চাহিদাও বেড়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিব্রা ইনফিউশনসের কারখানা বন্ধ রয়েছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদন স্থগিত রেখেছে এবং বেক্সিমকোও কিছু উৎপাদন বন্ধ করেছিল। অপসোনিন, ওএসএল ফার্মা, এসেনশিয়াল ড্রাগস ও পপুলার ফার্মার উৎপাদন কমেছে বলেও তাঁদের দাবি।

এ ছাড়া ইনসেপ্টা, হেলথকেয়ার, একমি ও এসিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এ বাজারে উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী নয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কোন প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কত পরিমাণ স্যালাইন উৎপাদন করছে, কোন কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ বা কম রয়েছে এবং বাজারে মোট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কত—এসব বিষয়ে হালনাগাদ ও যাচাইকৃত তথ্য প্রয়োজন। এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে সংকটের ব্যাপ্তি এবং সম্ভাব্য সমাধান নির্ধারণ সহজ হবে।

মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে

স্যালাইনের মূল্য পুনর্নির্ধারণের একটি প্রস্তাব প্রায় তিন মাস ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) জানিয়েছে, পর্যালোচনার পর প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের পরিচালক ও মুখপাত্র ড. মো. আক্তার হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। কমিটির বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উৎপাদনকারীদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয় না করা হলে সরবরাহ স্বাভাবিক করা কঠিন হবে। তবে মূল্য বাড়ানো হলে রোগী ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাব্যয়ও বাড়তে পারে। তাই মূল্য পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়, বাজারে সরবরাহ, রোগীর ক্রয়ক্ষমতা এবং জরুরি চিকিৎসায় স্যালাইনের প্রয়োজনীয়তা—সব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।

সংকট মোকাবিলায় নজরদারি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি

আইভি স্যালাইন হাসপাতালে ভর্তি রোগীসহ বিভিন্ন জটিল অবস্থায় থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তাই প্রয়োজনীয় স্যালাইনের সরবরাহ ব্যাহত হলে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি হয়। রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে পাওয়া চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কোথাও কিছু স্যালাইন থাকলেও প্রয়োজনীয় মাপের ব্যাগ মিলছে না। আবার কোথাও কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন বিক্রেতারা।

এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহের পরিমাণ যাচাই, পাইকারি ও খুচরা বাজারে মজুতের তথ্য সংগ্রহ এবং হাসপাতাল ও ফার্মেসিতে স্যালাইন বিতরণের চিত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো পর্যায়ে অযৌক্তিক মজুত, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র প্রকাশ করা গেলে সংকটের কারণ নির্ধারণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

রোগীর স্বজনদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইন সংগ্রহ করতে এক ফার্মেসি থেকে অন্য ফার্মেসিতে ছুটে বেড়ানো কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি নয়। তাই উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত পর্যালোচনার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্যগত বিষয়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!