বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ সুযোগ পেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করতে হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
যেসব পরীক্ষার্থীরা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পাবেন
অফিস আদেশ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষায় শুধুমাত্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে অংশ নিতে পারেননি, তারা পুনঃপরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া—
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীরাও একই সুযোগ পাবেন।
২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে।
পরে জানানো হবে পরীক্ষার তারিখ
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পুনঃপরীক্ষার তারিখ, সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৃথকভাবে প্রকাশ করা হবে। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয়ের নোটিশ নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বস্তি
হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি ও বন্যাজনিত কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি পুনঃপরীক্ষার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

