ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে উত্তরা অবরুদ্ধ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের লংমার্চ ঘোষণা

দৈনিক আজ ও আগামীকাল ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে উত্তরা অবরুদ্ধ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের লংমার্চ ঘোষণা

ছবিঃ সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর উত্তরায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা স্থগিতের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে কয়েকশ শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করলে রাজধানীমুখী ও গাজীপুরমুখী উভয় দিকের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ করবেন। তাদের দাবি, দেশের বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবতা বিবেচনা না করেই নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষার প্রশ্নেও একাধিক ত্রুটি ছিল, যা অনেক পরীক্ষার্থীর জন্য বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা ওই পরীক্ষার পুনর্মূল্যায়ন বা পুনঃপরীক্ষারও দাবি জানান।

এর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘোষিত তিন দফা দাবি হলো—

  • দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা।
  • ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা।
  • শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করা।

শিক্ষাবিদদের মতে, দুর্যোগকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা—উভয় বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কমবে, তেমনি জনদুর্ভোগও হ্রাস পাবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!